অপরাধী কোন দলের নয়, তার পরিচয় সে অপরাধী …. গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী এডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম বলেছেন, অপরাধী কোন দলের নয়, তার পরিচয় সে অপরাধী। তাই সে যেই হোক না কেন, তাকে সাজা ভোগ করতে হবে। কেননা আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়। আইন সরকারী দল ও বিরোধী দল দেখে না। আইনের চোখে ধনী-গরীব সবাই সমান। বর্তমান সরকার এই আইনের স্বতন্ত্র সক্ষমতা প্রদানের জন্য বিচার বিভাগকে অন্যান্য বিভাগের কাছ থেকে পৃথকীকরণ করেছে। বিচার বিভাগ এখন স্বাধীন। আর সবার জন্য বিচার সুনিশ্চিত করতে অসহায় মানুষের জন্য বর্তমান সরকার লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনগত সহয়তা প্রদান করছে। এসব কিছু সম্ভব হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়। 
রবিবার পিরোজপুরে জাতীয় আইনগত সহয়তা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালী শেষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পিরোজপুর জেলা দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাড এইড কমিটির চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান এর সভাপতিত্বে জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন, পিরোজপুরের পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মোল্লা আজাদ হোসেন, পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক, পিরোজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বেলায়েত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল হক পান্না, পিপি খান মো. আলাউদ্দিন, লিগ্যাল এইড এর প্যানেল আইনজীবী কমল কৃষ্ণ মজুমদার, এডভোকেট নাসিমা আক্তার, বিচারপ্রার্থী রজিনা বেগম। 
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিচার বঞ্চিত মানুষের বেদনায় যাদের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ হয় তাদের মধ্যে অন্যতম প্রধান হলেন শেখ হাসিনা। ১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্ট বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে খুন করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন এ হত্যাকান্ডের বিচার পান নি শেখ হাসিনা।
অনেক ব্যক্তিরা মহান মুক্তিযুদ্ধে জঘন্যতম অপরাধ করেছিল। ২ লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রম নিয়েছিল, ৩০ লক্ষ মানুষকে খুন করেছিল তারা বাংলাদেশের পতাকা গাড়িতে উড়িয়ে ঘুরতো। যারা বলেছিল ‘আমরা রাজাকার বলতে স্বাচ্ছন্দবোধ করি, আমার বিচার করে দেখেন না। যারা বলতো জামায়াত ইসলামী কচুপাতার পানি না, ঝাকা দিলেই পড়ে যাবে।’ তাদের সে দাম্ভিকতা চূর্ণ হয়েছে বিচার হয়েছে। তাই অপরাধ যিনি করবেন তিনি আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত, জাতীয় পার্টি বলে তার কোন পরিচয় থাকতে পারে না। তার পরিচয় একটাই তিনি অপরাধী। তাকে আইনের কাঠগড়ায় একদিন না একদিন দাড়াতেই হবে।
এর আগে শহরের সিও অফিস মোড়ে বঙ্গবন্ধু চত্ত্বর থেকে এক বর্নাঢ্য র্যালী বের হয়ে পিরোজপুর জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়। আলোচনা সভা শেষে লিগ্যাল এইড এর শ্রেষ্ঠ আইনজীবীদের পুরস্কার প্রদান করেন প্রধান অতিথি।
