নুসরাত হত্যার দ্রুত বিচার চাইলেন স্বরূপকাঠীর ইউএনও
যৌন নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের দেশের প্রচলিত আইনে যথেষ্ঠ বিচার ব্যবস্থার কথা থাকলেও রাজনৈতিক পরিচয়ে কিছু স্বার্থন্বেষী নেতাদের ছত্রছায়ায় পার পেয়ে যাচ্চে মানুষ নামে কতগুলো হায়নাররা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রীরা যৌন নির্যাতন শিকার হলেও মামলার পরিবর্তে শাস্তি স্বরূপ অনত্র বদলি হয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে অসাধু শিক্ষকরা। যারা দলীয় রাজনীতি করে দলীয় চেতনার কথা চিন্তা না করে ব্যক্তি স্বার্থের জন্য তৎপর থাকে তাদের ছত্রছায়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওইসব যৌন নির্যাতনকারি শিক্ষক নামে নর পিচাশরা পার পাচ্ছেন।
ফেনীর সোনাগাজি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার বিচার দাবিতে বুধবার দুপুরে এক মানববন্ধনে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী (নেছারাবাদ) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু এ মন্তব্য করেন।
উপজেলা মহিলা পরিষদসহ মিডিয়া কর্মীরা এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেন।
ইউএনও তার বক্তব্যে বলেন, পিরোজপুর সরকারি কলেজে হাবিবুর রহমান নামে এক শিক্ষক ৩০ জন মেয়ের যৌন নির্যাতন করেছেন। অথচ সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা না করে শাস্তি স্বরূপ তাকে হাতিয়ায় বদলি করা হয়েছে। আবার স্বরূপকাঠী উপজেলার আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের ধলহার গ্রামে একটি বিদ্যালয়ে এক শিক্ষক কর্তৃক এক ছাত্রী যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সেই শিক্ষকের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনে সত্য প্রকাশিত হলেও তার বিরুদ্ধে মামলা না হয়ে তাকে শাস্তি স্বরূপ বরখাস্ত করা হয়েছে। অথচ সেই শিক্ষক এখনও স্কুলে এসে অন্যদের উপর মাস্তানি করছে। এসব কিছুর পিছনে রয়েছে তথাকথিত দলীয় পান্ডাদের ছত্রছায়া।
ইউএনও বলেন, নুসরাত জাহান রাফি যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদ করে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হয়েছে। রাফি মরেনি। সে মরে গিয়ে সবার চোখ খুলে দিয়েছে। রাফি আজ প্রতিবাদের কন্ঠস্বর। তিনি বলেন, আমি একজন প্রশাসক হিসেবে নয়, স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে, রাফির ভাই হয়ে আমি এর বিচার চাইছি। রাফি হত্যাকারিদের দ্রুত বিচার চেয়ে মানববন্ধনে সবার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন ইউএনও।
মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্য বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস জাহান, নারি নেত্রী মিরা রানি চৌধুরী প্রমুখ।
