বাগেরহাটে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ
বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের চরগ্রামে যৌতুকের দাবীতে রুমিচা আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার বিকেলে গুরুতর আহত রুমিচা আক্তারকে বিষ খাওয়া অবস্থায় বাগেরহাট সদর হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে।
মঙ্গলবার দুপুরে সদর হাসপাতাল মর্গে ওই গৃহবধূর ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় বাগেরহাট মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের চরগ্রামের বাদশাহ শেখের ছেলে শামিম শেখ (২৮) এর সাথে পাশ^বর্তি গোটাপাড়া ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামের মিতায়ীল শেখের কন্যা রুমিচা আক্তারের ২ বৎসর পূর্বে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শামিম ও তার পরিবার যৌতুকের দাবীতে রুমিচাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল। প্রায়ই তাদের সংসারে অশান্তি বিরাজ করত। এ নিয়ে মঙ্গলবার শামিমের মা কমলা বেগম ও বোন হেনা আক্তার সাথে রুমিচার বাকবিতন্ডা হলে রুমিচা বিষ পান করে।
এদিকে, নিহতের পিতা মিতায়ীল শেখ অভিযোগ করে বলেন বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবীতে আমার মেয়ের উপর শামিমের পরিবারের লোকজন অমানুষিক নির্যাতন চালায়। শারীরিক নির্যাতনের কারণে বিয়ের ৬ মাসের মধ্যেই ওদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। পরে কোর্টের মাধ্যমে পূনরায় এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিলে আমি আমার মেয়েকে আবারো শামিমের ঘটে পাঠাই। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই আবারো আমার মেয়ের উপর নির্যাতন চলতে থাকে। আমি আমার মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী সব কিছু দিয়েছি শামিমের পরিবারকে। রুমিচাকে ওর শাশুরী কমলা বেগম ও ননদ হেনা আক্তার মেরে মুখে বিষ দিয়ে হত্যা করেছে। আমি আমার মেয়ের সকল হত্যাকারীদের বিচার চাই।
বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাতাব উদ্দিন জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
