কোষ্টগার্ডের বিরুদ্ধে জেলেকে ক্যাম্পে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ
স্বরূপকাঠী উপজেলায় তোফাজ্জেল হোসেন নামে এক জেলেকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে উপজেলা কোষ্টগার্ডের পেটি অফিসার গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে। গত ১৩ এপ্রিল দুপুরের দিকে কোষ্টগার্ড তাকে ক্যাম্পের ভিতরে আটকে রেখে পেটি অফিসার গোলাম মোস্তফার নির্দেশে কয়েকজন কোষ্টগার্ড সদস্য ওই জেলেকে মারধর করেছেন। এক পর্যায়ে ওই জেলের কাছ থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কোষ্টগার্ড। নির্যাতিত ওই জেলে উপজেলার কামারকাঠি গ্রামের সামসুল হকের ছেলে। বর্তমানে ওই জেলে ডাক্তারি চিকিৎসা নিয়ে নদীতে মাছ ধরা ছেড়ে বাড়ীতে বসে কোষ্টগার্ড আতঙ্কে রয়েছেন।
কোষ্টগার্ডের হাতে নির্যাতিত জেলে তোফাজ্জেলের অভিযোগ করে বলেন, গত ১৩ এপ্রিল শনিবার দুপুরে কোষ্টগার্ডের পেটি অফিসার গোলাম মোস্তফা কথা আছে বলে মোবাইল ফোনে তাকে ক্যাম্পে ডাকেন। তোফাজ্জেল ফোন পেয়ে ক্যাম্পে আসলেই কোষ্টগার্ডের কয়েকজন মিলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এক পর্যায়ে জেলে তোফাজ্জেলের আকুতিতে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তোফাজ্জেল বলেন, বিষয়টি তিনি উপজেলা মৎস্য অফিসসহ এলাকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানকেও জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানার জন্য কোষ্টগার্ডের অফিসিয়াল মোবাইল ফোন নাম্বারে কল করলে ফোন রিসিভ করে ক্যাম্পের বর্তমান পেটি অফিসার মিরাজ হোসেন বলেন, আমার স্থলের পূর্বের পেটি অফিসার গোলাম মোস্তফা চলে গেছেন। জেলেকে মারধরের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন কিনা জানতে চাইলে, পেটি অফিসার মিরাজ হোসেন বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তাকে কোন মারধর করা হয়নি। জেলে তোফাজ্জেলের পছন্দ অনুযায়ী মাঝি নিচ্ছিনা বলে আমাদের বিরুদ্ধে যাতা বলছিল। তাই তাকে ডেকে মৌখিক জিজ্ঞাসা করা হয়েছে মাত্র।
এ বিষয়ে জানার জন্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় অফিস সহকারি মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, কোষ্টগার্ডের অভিযানের জন্য আমরা অফিস থেকে জেলেদের মধ্যে থেকে মাঝি দিয়ে থাকি। সে কারণে উপজেলা ক্ষুদ্র মৎস্য সমিতির সম্পাদক তোফাজ্জেলের কাছ থেকে ৫ জন মাঝির নাম নিয়ে কোষ্টগার্ডের কাছে পাঠিয়েছি। কিন্তু কোষ্টগার্ড তাদের পছন্দ অনুযায়ী মাঝি নিবেন। আর তোফাজ্জেল তা না মানার কারণে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে শুনেছি।
উপজেলা মৎস্য সমিতির সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ভাল লোকটাকে ধরে নিয়ে কোষ্টগার্ড মারধর করেছে। এখন পর্যন্ত মার খাওয়া তোফাজ্জেলের শরীরে অনেক নীলা ফুলা আঘাত রয়েছে। শুনেছি এ ব্যাপারে থানায় একটি জিডি করা হয়ছে।
