প্রধান সূচি

চার উপজেলায় বিদ্যুৎ বন্ধ

বাগেরহাটে প্রবল বর্ষণ ও ঝড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ॥ নারী ও শিশুসহ আহত-৮

বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বর্ষণ, শিলা বৃষ্টি ও ঝড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এসময় গাছ ও ঘর ভেঙ্গে চাপা পরে নারী-শিশুসহ ৮ জন আহত হয়েছে।

ঝড়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা-পাকা প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উপড়ে ও ভেঙ্গে গেছে অসংখ্য গাছপালা। আহতদের উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঝড়ে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ায় জেলার চারটি উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বৃষ্টির সাথে ঝড়ো হাওয়ায় এই ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করতে স্ব স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসন।

আহতরা হলেন, বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ খানপুর গ্রামের শেখ জাকির হোসেন (৫২), মাদরাসা ছাত্র ফরিদ হোসেন (১৩), সাফিয়া বেগম (২৪) রাফমিন (৪), ময়না (১৫), লাকি বেগম (৩২), হাবিব (৪৮) এবং আফরিনা (৩৫)। বাগেরহাট পৌরসভার হাড়িখালি, সদর উপজেলার খানপুর, ষাটগম্বুজ, কাড়াপাড়া, ডেমা, বেমরতা ও রাখালগাছি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে অন্তত শতাধিক কাঁচাপাকা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির ফহম উদ্দীন বলেন, প্রবল বর্ষণ ও শিলা বৃষ্টির সাথে কালবৈশাখী ঝড়ে দক্ষিণ ও উত্তর খানপুর গ্রামের অন্তত ৩০ কাঁচাপাকা বসত ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘর ও গাছ চাপা পড়ে শিশু নারীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঝড়ে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ^াস বলেন, কাল বৈশাখী ঝড়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ও গাছপালা পড়ে গেছে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারি ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. নাজমুল হাসান বলেন, দুপুরে ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের বেশকিছু খুঁটি ভেঙ্গে পড়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙ্গে পড়ায় বাগেরহাট সদর, কচুয়া, ফকিরহাট ও রুপসা উপজেলায় সকাল থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঝড়ে বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নে তিনটি, ফতেপুর, সায়েড়া ও বিষ্ণুপুর গ্রামে অন্তত ছয়টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙ্গে গেছে। আমাদের একাধিক দল বিদ্যুৎ সংযোগের মেরামত কাজে মাঠে নেমেছে।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) মো. আফতাব উদ্দীন  বলেন, গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় প্রায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বৃষ্টিতে কৃষির তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বরং এই বৃষ্টিতে গ্রীষ্মকালীন ফসল আম, কাঁঠাল ও বোরো ধানের দারুণ উপকার হয়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial