উপজেলা পরিষদ নির্বাচন
পিরোজপুরে আ’লীগের দুই গ্রুপের আলাদা আলাদা তালিকা কেন্দ্রে প্রেরণ
পিরোজপুরে জেলা আওয়ামী লীগের দ্বিধা-বিভক্তির মধ্য দিয়ে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলার ৭টি উপজেলার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে জেলা আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপ আলাদা আলাদা তালিকা কেন্দ্রে প্রেরণ করেছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক এমপি এ কে এম এ আউয়াল স্বাক্ষরিত জেলার কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়া উপজেলার চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা কেন্দ্রে প্রেরণ করা হয়। এ তালিকায় জেলা সভাপতিসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর রয়েছে।
অন্যদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এম এ হাকিম হাওলাদার ও ৭ উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত আরও একটি নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এ তালিকায় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ১৯ জন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম রয়েছে। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৮ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৭ জনের নামের তালিকা রয়েছে।
কেন্দ্র নির্দেশিত নিয়ম অনুযায়ী প্রেরিত তালিকায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষর কথা থাকলেও পিরোজপুর জেলা থেকে প্রেরিত তালিকায় সে যৌথ স্বাক্ষর নেই। দীর্ঘদিন ধরে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের আলাদা দুটি গ্রুপ সৃষ্টি হয়ে দ্বিধা বিভক্তি হওয়ায় এ অবস্থা বিরাজ করছে।
তবে তালিকা প্রেরণের বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল বলেন, পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রনয়ণের জন্য বার্ধিত সভা অনুষ্ঠানের দিন একটি গ্রুপ সভায় হট্টগোল করে সভা বানচাল করে করে দেয়। ঐ গ্রুপটি বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যানের নামই তালিকায় রাখতে নারাজ। পরে তারা আমার স্বাক্ষর না নিয়েই তাদের ইচ্ছেমত পছন্দের নামের তালিকা দিয়েছে। তবে সদর উপজেলায় আমি শুধু বর্তমান চেয়ারম্যান মো. মুজিবুর রহমান খালেকের নামটি কেন্দ্রে দিয়েছি। এছাড়া কাউখালী উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, ভান্ডারিয়া উপজেলায় একক নাম এবং মঠবাড়িয়া উপজেলায় ৩ জনের নামের তালিকায় স্বাক্ষর দিয়েছি।
প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রেরণের বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ ফিরোজ আহম্মেদ জানান, জেলা ও সংশ্লিষ্ট উপজেলার নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত সাবজেক্ট কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের নামের তালিকা প্রনয়ণ করে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রেরিত তালিকায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির স্বাক্ষর নেই। তবে তিনি আলাদাভাবে কিছু উপজেলার তালিকা করে কেন্দ্রে দিয়েছেন।
এদিকে, চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ এবং মহিলা পদে যাদের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে তা নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপই তাদের ইচ্ছেমত এবং পছন্দের লোকদের নামের তালিকা পাঠিয়েছেন বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে ে প্রেরিত তালিকার বাইরেও অনেকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য দলীয় মনোনয়নপত্র কিনেছেন। এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পিরোজপুর সরকারী সোহরাওয়ার্দী কলেজের সাবেক ভিপি, জিএস মো. মাকসুদুল ইসলাম লিটন জানান, পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের কাছে আবেদন করেছিলাম, কিন্তু তারা আমার নাম তালিকায় রাখেন নি। তারা নিজেদের পছন্দের লোকদের নাম তালিকা করে কেন্দ্রে দিয়েছে। তবে আমি কেন্দ্র থেকে দলীয় মনোনয়নের ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছি।
পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সমন্বয়ে সাবজেক্ট কমিটি সুপারিশকৃত এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় যাদের নাম পাঠানো হয়েছে তারা হলেন-
পিরোজপুর সদর : কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের সদস্য, পিরোজপুর জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতি এবং জেলা চেম্বার অব কমার্স সভাপতি মো. মশিউর রহমান মহারাজ, পিরোজপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সরদার মতিউর রহমান এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল আহসান গাজী।
নাজিরপুর : নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নাজিরপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মোশারেফ হোসেন খান, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান চৌধুরী নান্নু এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রান ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সুখরঞ্জন দেউরী।
নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) : স্বরূপকাঠী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস. এম মইদুল ইসলাম এবং পিরোজপুর জেলা পরিষদ সদস্য এবং সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাকারিয়া খান স্বপন।
ইন্দুরকানী : ইন্দুরকানী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মতিউর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান সেলিম এবং ইন্দুরকানী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আহবায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোবারেক আলী হাওলাদার।
কাউখালী : জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান পল্টন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও কাউখালী সদর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম মিল্টন এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী রুহিয়া বেগম হাসি।
ভান্ডারিয়া : জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি খান এনায়েত করিম এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম (মিরাজ)।
মঠবাড়িয়া : উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজুল হক সেলিম মাতুব্বর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ (দক্ষিন) এর সাবেক সভাপিত মো. বায়েজিদ এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আশরাফুর রহমান।
এদিকে, জেলা আওয়ামী লীগে সভাপতি স্বাক্ষরিত আলাদা তালিকায় চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন- ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠন ঘোষিত একক প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম।
কাউখালী উপজেলায় পিরোজপুর জেলা পরিষদ সদস্য মো. মামুন হোসাইন (বাবলু জোমাদ্দার), পিরোজপুর জেলা পরিষদের মহিলা সদস্য অধ্যাপিকা শাহজাদী রেবেকা শাহীন চৈতি। এছাড়া মঠবাড়িয়া উপজেলার প্রেরিত চেয়ারম্যান প্রার্থী’র ৩ জনের নামের তালিকায় তিনি স্বাক্ষর করেছেন বলে জানিয়েছেন।
