প্রধান সূচি

কাউখালীতে পানের চড়া দামেও খুশি নন পান চাষি ॥ বিপাকে পড়ছে ক্রেতারা

কাউখালীসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে গত এক মাস যাবত উত্তাপ বইছে পানের বাজারে। পাইকারি মোকামগুলোতে সর্বকালের রেকর্ডমূল্যে বিক্রি হচ্ছে পান। খুচরা বাজারে একটি পানই বিক্রি হচ্ছে ৫-১০ টাকা। সাধারণ পান এতো দামে সাধারণত বিক্রি হয় না। তবু খুশি নন না পানচাষিরা। পানের জন্য বিখ্যাত কাউখালীর কয়েকজন পানচাষির সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।

উপজেলার গান্ডতা গ্রামের পানচাষি অনস্ত সিকদার ও আসপর্দ্দি গ্রামে বিশ^জিৎ সমদ্দার বলেন, বর্তমানে পানের দাম চড়া হলেও আমাদের কোনো লাভ নেই। তিনি জানান, এলাকার জমি ও আবহাওয়া পান চাষের উপযোগী। অন্য ফসলের তুলনায় পান চাষ অধিক লাভজনক। ফলে অনেকেই অন্য ফসলের পরিবর্তে ব্যাপকহারে পান চাষ করেছিলেন। কিন্তু বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা, শীতকালের কুয়াশা এবং পানের ডাটা পচা রোগে এবার আমরা শেষ হয়ে গেছি।

পিরোজপুর পান চাষী সমিতি সভাপতি নিমাই মন্ডল বলেন, কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় দেড় হাজার পান চাষী রয়েছে। এসব কৃষক প্রায় ১০০-১৫০ হেক্টর জমিতে পান চাষ করছে। পান চাষের সাথে জড়িত উপজেলার কয়েক হাজার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস এই পান চাষ। এ উপজেলার পানের স্বাদের বৈশিষ্ট ভিন্ন। পান সুস্বাদু হওয়ায় চাহিদা রয়েছে দেশ জুড়ে। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে তিনি চাহিদা থাকলেও আমদানি কমে যাওয়া এবং পরিবহন ব্যয় না কমাকে দায়ী করেন।

কাউখালী বন্দরের পান ব্যবসায়ী মিলন দাস বলেন, সর্বকালের সবচেয়ে বেশি দামে পান বিক্রি হচ্ছে। ২৪০ টাকায় এক জোড়া (৯৬ টিতে এক জোড়া) পান কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে ২৬০ টাকায়।

হঠাৎ করে পানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অস্থিরতা বিরাজ করছে কাউখালীসহ আশ-পাশের বাজারজুড়ে। আমদানি কমের অজুহাতে পানের দাম বৃদ্ধি পায়, যা এখন অগ্নিরূপ ধারণ করেছে। দুই মাস আগে যে পান পাইকারি বাজারে ৭৫ টাকা জোড়া (৯৬টি) বিক্রি হতো, সে পান এখন ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার যে পান ৬০ টাকায় বিক্রি হতো, সে পান এখন ২২৫ থেকে ২৪০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পানের দরও বেড়েছে ৩ থেকে ৪ গুণ। খুচরা পানের বাজারের চিত্র আরো ভয়াবহ। পাইকারি বাজারে যে পান চল্লি (৩২ পিস) বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় তা খুচরা বাজারে প্রতি চলিল ৮০ টাকা বা তার বেশিতে বিক্রি হচ্ছে। দাম বৃদ্ধির প্রভাব খুচরা বাজারে আরো বিরূপভাবে পড়ায় ক্রেতারা পড়েছেন বিপাকে। অনেকে এরই মধ্যে কমিয়ে দিয়েছেন পান ক্রয় করা এবং খাওয়া।

সপ্তাহে দু’দিন সোম ও শুক্রবার লাখ লাখ টাকার পান দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান হয়। পানের হাট বাজার গিয়ে দেখা যায়, বেচা-কেনা করতে কয়েকশতাধিক চাষি পান নিয়ে বাজারে বসেন। আর ঢাকা, খুলনা, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা চাষিদের কাছ থেকে পান কিনছেন। এসব পান ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী আজিম শরীফ বলেন, কাউখালী উপজেলায় ১০৫ হেক্টর জমিতে পান চাষ করা হয়েছে। এবছর পানে চাষে কোন সমস্যা পরিলক্ষিত হয়নি। শীতে কুয়াশায় পান যাতে নস্ট না হয় সে ব্যাপারে চাষীদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial