প্রধান সূচি

প্রতারণা মামলায় লন্ডনের আদালতে

ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিমের ১০ বছরের কারাদন্ড

বাংলাদেশি ভিসা জালিয়াতি ও ব্রিটিশ সরকারের ১৩ মিলিয়ন পাউন্ড হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সম্প্রতি লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্ট ৪ বাংলাদেশিসহ ৫ জনকে ৩১ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত করেছে। এর মধ্যে ৪ জন হলেন ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানার সাতুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম, রেজাউলের আপন ভগ্নিপতি এনামুল করিম (৩৪), কাজি বরকত উল্লাহ (৩৯) ও মোহাম্মদ তমিজ উদ্দীন (৪৭)।

এ চক্রটি ৭৯টি ভুয়া কোম্পানি খুলে বহু বাংলাদেশি নাগরিকের জাল কাগজপত্র তৈরি করে অভিনব কায়দায় জালিয়াতির জাল বিস্তার করে বলে আদালতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয়েছে। মামলা চলাকালে দোষ স্বীকার করায় রেজাউল করিমকে সাড়ে ১০ বছরের সাজা দেয়া হয়। তবে রায় ঘোষণার সময় রেজাউল করিম, এনামুল ও বরকত পলাতক ছিলেন।

উল্লেখ্য, একেএম রেজাউল করিম পিরোজপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এর আগে লন্ডন পুলিশ একেএম রেজাউল করিম ও তার সহযোগী বরকত উল্লাহকে ২০১৩ ও ২০১৭ সালে এ নধরনের প্রতারণার লাগাতার অভিযোগে দু’দফায় গ্রেফতার করে।

রেজাউল করিম পূর্ব লন্ডনে বেকটন এলাকার আলবার্ট বেসিন ওয়ে বসবাস করতেন এবং বাংলাদেশের ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানার সাতুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোসলেম আলী খানের ছেলে। পিরোজপুর পৌর শহরের পুরাতন বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় রেজাউলের একটি সুরম্য বাড়ীসহ কাউখালী ও রাজাপুর উপজেলায় বেশ কয়েকটি অট্টালিকা রয়েছে। তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতা এবং বাংলাদেশে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে রাজাপুর-কাঠালিয়া থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। এ সময় তিনি ওই এলাকায় নিজেকে লন্ডন প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার ও সাংবাদিক হিসেবে দাবি করে ঘরে ঘরে প্রচারণা চালান।

লন্ডনের জাতীয় এবং আঞ্চলিক মূলধারার ইংলিশ সংবাদ পত্রের খবরে বলা হয়, ২০০৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ প্রতারক চক্রটি দফায় দফায় অপরাধ সংঘটিত করে।

এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রায় ঘোষণার আগেই রেজাউল সুকৌশলে লন্ডন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial