চিতলমারীতে ১ মণ ধানের মূল্যে ১ কেজি বীজ !
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ধান চাষীদের এখন মরণদশা। এক মণ ধান বিক্রির টাকায় কিনতে হচ্ছে এক কেজি ধান বীজ। এ অবস্থায় এলাকার শত শত চাষিরা এখন চরম বিপাকে পড়েছেন। স্থানীয় কৃষি অফিসের তদারকির অভাবে অসাধু বীজ ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজারে বীজের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকার চাষিরা।
চাষিদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে এলাকায় এখন বীজতলা তৈরি ও বীজবপনের কাজ শুরু হয়েছে। ফলন ভালো পাবার আশায় উচ্চফলনশীল জাতের ধান চাষের প্রতি ঝুঁকছেন চাষিরা। আর বাজার থেকে উচ্চ মূল্যের এ বীজ কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এক মণ ধান বিক্রির টাকায় এককেজি বীজ কিনতে হচ্ছে চাষিদের। এ পরিস্থিতিতে অনেক চাষি সময়মতো জমিতে ধানচাষ করতে পারবেন না বলে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। বর্তমানে ধানের বাজার খুবই নি¤œমুখী থাকায় চাষিরা ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে বলে অভিমত প্রকাশ করেন অনেকে।
সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, এলাকায় ধানের বাজার খুবই নি¤œমুখী। সরকারি ভাবে ধান, চাল বেচা-কেনার তেমন কোন মাধ্যম নেই। ধান বিক্রি করে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেনা চাষিরা এমন অভিযোগ তাদের। প্রতিমণ ধান এখন ৫শ’ থেকে ৫শ’ পঞ্চাশ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে তাদের লাভের মুখ দেখা দূরে থাক আসল চালান ঘরে তুলতে পারছেন না তারা। বোরো মৌসুমের শুরুতে এখন এক কেজি উচ্চফলনশীল জাতের সুপ্রীম, হীরা (২), সাথীসহ নানা রকমের ধানবীজ প্রকার ভেদে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে চাষিদের। ফলে প্রায় এক মণ ধান বিক্রির টাকায় কিনতে হচ্ছে এক কেজি বীজ। এ পরিস্থতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে চাষি।
উপজেলার সুরশাইল গ্রামের ধানচাষি আনন্দ বিশ্বাস, বারাশিয়া গ্রামের আলমগীর খান, শ্রীরামপুর গ্রামের রাম বৈদ্য, আড়–য়া মাছুয়ারকুল গ্রামের সুভাষ সমাদ্দারসহ অনেক চাষি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ধান চাষ করে প্রতিবছরই লোকসান গুণতে হচ্ছে। একমণ ধান বিক্রির টাকায় এক কেজি বীজ কিনতে হচ্ছে। এরপরেও কৃষিকাজের উপর নির্ভর করে আছি। মৌসুম এলেই জমিতে ধান চাষ না করে ঘরে বসে থাকতে পারিনা। লোকসান হলেও কিছুই করার নেই।
এলাকার ধান ব্যবসায়ী মোকলেচুর রহমান, মাহাতাব হোসেন, জগদীস পান্ডে জানান, খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া ও মাদারীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা চালকলে ধান বিক্রি করে করেন। কিন্তু বর্তমানে কোন চালকলে ধান ক্রয় করছে না। এসব চালকলে তাদের লাখ লাখ টাকা আটকে আছে বাকী। এছাড়া স্থানীয় বাজারে ভারতীয় চালে সয়লাব হয়ে গেছে। এতে বাজারে ধান-চালের দাম মন্দা দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবু সাঈদ জানান, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। অসাধু বীজ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
