শরণখোলায় খেলার মাঠ দখল করে ঠিকাদারী সামগ্রী !
বাগেরহাটের শরণখোলার প্রাণ কেন্দ্রে আবস্থিত রায়েন্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি এক প্রকার ঠিকাদার ও কতিপয় ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে। মাঠের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দখল করে পাথরের খোয়া, ব্লক ও পানির ট্যাংকসহ বিভিন্ন মালামাল রাখা হয়েছে।
ফলে এক বছর ধরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় শিশু-কিশোররা খেলাধুলা করতে পারছে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করার বিধান না থাকলেও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ঠিকাদার গ্রুপ তার তোয়াক্কা করছেন না ।
স্থানীয় খেলোয়াড় মো. ওহিদুজ্জামান ডালিম, আ. কাদের, মো. আরিফ হোসেন, মো. তহা অভিযোগ করে বলেন, সারা মাঠে পাথরের খোয়া এবং ব্লক সহ পানির ট্যাংক ছড়ানো। তা ছাড়া প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব মালামাল আনা-নেওয়ার জন্য মাঠের মধ্য দিয়ে ট্রাক-ট্রলি চলাচল করায় মাঠে বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। এ কারণে এই মাঠে খেলাধুলা করা কোনভাবে সম্ভব না। খালি পায়ে তো খেলার সুযোগই নেই। তারা দ্রুত মাঠটি দখলমুক্ত করার দাবি জানান।
রায়েন্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সুলতান আহমেদ গাজী বলেন, ‘আমাদের স্কুলের এই মাঠেই জাতীয় সব প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন খেলার টুর্নামেন্ট হয়ে থাকে।
বর্তমান যে অবস্থা তাতে এটাকে দেখলে এখন আর মাঠ মনে হয় না। ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীরা যে যেভাবে পারছে তাদের কাজে ব্যবহার করছে। বাঁধা দিলেও তাতে কাজ হচ্ছে না। মাঠটি দ্রুত সংরক্ষণ করে খেলার পরিবেশ ফিরিয়ে না আনলে শিশু-কিশোররা বিপথগামী হবে।
উপজেলা শারীরিক শিক্ষাবিদ এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম আকন বলেন, বছর জুড়ে মাঠ দখল করে রাখায় শীতকালীন বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।
উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এম সাইফুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘মাঠটি ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীরা যেভাবে দখল করে আছে তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। মাঠের ঐতিহ্য নষ্ট করছে এই প্রভাবশালীরা। মাঠ সংরক্ষণ এবং অবৈধ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।’
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিংকন বিশ্বাস বলেন, ‘খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট করে কাউকে ব্যবসা করতে দেওয়া যাবে না। শিগগিরই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
