প্রধান সূচি

মঠবাড়িয়ায় মহাজোট থেকে সংসদ সদস্য হতে চান তিন ডাক্তার

পিরোজপুরের সবচেয়ে বড় উপজেলা মঠবাড়িয়া। একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলা। যেটির সংসদীয় আসন হল পিরোজপুর-৩। এ আসনে ভোটার  সংখ্যা ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫শত ৮৬ জন। এ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে মনোনয়নের আশায় তিন ডাক্তার মাঠে। এরা হলেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রস্তুম আলী ফরাজী। এর আগে তিনি ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে একবার ও ২০০১ সালে বিএনপি থেকে একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন।

সাবেক সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. আনোয়ার হোসেন ২০০৮ সালের নির্বাচনে পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসন থেকে প্রথম বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মনোনয়ন প্রত্যাশী আরেকজন হলেন জেলা আওয়ামী লীগের আরেক সহ-সভাপতি ডা. এম নজরুল ইসলাম। ব্যানার, ফেস্টুন ও প্রচার প্রচারনায় তারা ভোটারদের মন জয় করার কাজে ব্যস্ত তিনজনই ।

ডা. রস্তুম আলী ফরাজী চলতি বছরের প্রথম দিকে ঢাকায় এরশাদের উপস্থিতিতে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। এরপর এরশাদ গেল ফেব্রুয়ারীতে মঠবাড়িয়া জনসভা করে ডা. রস্তুম আলী ফরাজীকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন।

মঠবাড়িয়ার আওয়ামী লীগে রয়েছে ব্যাপক কোন্দল। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-৩  আসনে আওয়ামী লীগের কোন্দলকে পুঁজি করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. রস্তুম আলী ফরাজী। ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই মঠবাড়িয়া শহরে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংর্ঘষে যুবলীগ কর্মী ইলিয়াস হোসেন লিটন পন্ডিত নিহত হন। এ হত্যার ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের মধ্যে বিবাদ আরো বাড়ে।

মনোনয়ন প্রত্যাশী  ডা. আনোয়ার হোসেন  বলেন, “এবারের মনোনয়ন তো আমারই। দলীয় সভানেত্রী তো মনোনয়ন দিয়েই দিয়েছে আমাকে। গতবারতো আমাকে দলের লোকজনে হারিয়েছে।” এলাকায় যোগাযোগ কেমন জানাতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি তো এলাকায়ই আছি। রোগী দেখি, মাঝে মাঝে এদিক সেদিক যাই কাজে।” মঠবাড়িয়া আসনটি যদি মহাজোটের শরিক দল জাতীয়পার্টি চায় তা তাদেরকে দিবেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আসন ছেড়ে দেয়াতো দলীয় সভানেত্রীর সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে। এরপর তিনি বলেন, যদি এ আসনটি মহাজোটকে দিতো তাহলে তো আওয়ামী লীগে যোগদানের আগে ১২ জন সংসদ সদস্যের একটি তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেয়া হলে প্রধানমন্ত্রী ডা. রস্তুম আলী ফরাজীসহ আরেক জনের নামের সামনে ক্রস দিয়ে দিয়েছিল।‎ ডা. রস্তুম আলী ফরাজী জাতীয় পার্টিতে যোগদানের পর প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে  গেলে তিনি রস্তুম আলী ফরাজীকে তখন বলেছিলেন মঠবাড়িয়ায় আমার প্রার্থী ডা. আনোয়ার হোসেন।” তিনি বলেন, রুস্তুম আলী ফরাজীর ৫ হাজার ভোট আছে কিনা খুঁজে দেখেন। তিনি বলেন, আমি মনোনয়ন দলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করার পর জমাও দিয়েছি।

মনোনয়ন প্রত্যাশী পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব স্বাচিপ ও বিএমএ’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ২০০৮ এর নির্বাচনের আগে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য যখন তৃনমুলে ভোট হয়েছে তখন আমি প্রথম হয়েছিলাম। কিন্তুু সরকারী চাকুরী করার কারণে আমি নির্বাচনে অংশ নিতে পারি নি।  তিনি বলেন, সবার সাথে আমার ভাল সম্পর্ক। আমি এলাকায় বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি। মনোনয়ন পেলে আমি বিজয়ী হব, এরকম সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান তৈরী হয়েছে। তিনি দলীয় মনোনয়পত্র সংগ্রহ করার পর জমা দিয়েছেন বলে জানান।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ডা. রস্তুম আলী ফরাজী বলেন, আমি কোন অনিয়ম-দুর্নীতি করি না। এ কারণে মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে। আওয়ামী লীগের ডা. আনোয়ার হোসেনের করা মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে সবাইতো তার মঞ্চে ছিলেন। তাহলে কোন্দল দেখলেন কোথায় ডা. আনোয়ার। যারা আওয়ামী লীগে ফিরেছে তারা আওয়ামী লীগে ছিলেন। তারা বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছেন। শুধু স্বতন্ত্র ছিলাম আমি। মানুষ আমাকে ভালবেসে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে। আওয়ামী লীগের কোন্দলের কারণে আমি বিজয়ী হয়েছি এ কথা ঠিক না।

Please follow and like us:


« (পূর্ববর্তি সংবাদ)



উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial