শরণখোলায় উড়ো চিঠি দিয়ে চাঁদা দাবী
বাগেরহাটের শরণখোলায় উড়ো চিঠি দিয়ে চাঁদা দাবী করার ঘটনা চলছে। দাবীকৃত টাকা পেয়ে বসতবাড়ি, গোয়াল ঘর ও বেড়ায় আগুন দেয়ারও ঘটনা ঘটেছে। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে ১০টি গরু এবং ৩টি ছাগল ও ২টি বসতঘর। আতংক সৃষ্টি করতে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দাবী করা হয়েছে। এর আগে বাড়ি দুটিতে উড়ো চিঠি দিয়ে দু’লাখ টাকা দাবী করে উল্লেখ করা হয়েছিল এবং হুমকী দেয়া হয়েছিল টাকা না দিলে ঘরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হবে। টাকা না পেয়ে সন্ত্রাসীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শুক্রবার ভোর রাতে এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে মাত্র ২০ ফুট দূরত্বে।
ভুক্তভোগী গৃহকর্তা আ. রব ফরাজী মিয়া জানান, ভোর রাত ৪ টার দিকে ফজরের নামাজের জন্য ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলতেই তার বাড়ির গোয়াল ঘর ও বেড়ায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখে চিৎকার দিলে প্রতিবেশীদের প্রচেষ্টায় তারা আগুন নেভাতে সক্ষম হন। ওই সময়ে আগুনের ঘটনা তার নজরে আসায় গোয়াল ঘরে থাকা ৭টি গরু ও তিনটি ছাগল আগুনে ভস্মিভুত হয়ে মারা যেত এবং তার ও প্রতিবেশী কুয়েত প্রবাসী মাসুম বিল্লাহ্ এর বসতঘর রক্ষা পায়।
প্রবাসী মাসুম ও আ. রব জানান, গত ২৪ অক্টোবর রব ফরাজীকে এবং ৬ নভেম্বর মাসুমের উদ্দেশ্যে রাতের আঁধারে তাদের দরজায়কে বা কারা পৃথক দু’টি চিঠি রেখে যায়। বেকার যুবক উল্লেখ করে প্রেরিত উভয়ের কাছে পাঠানো চিঠিতে এক লাখ টাকা করে চাঁদা দাবী করে তাতে উল্লেখ করা হয়, টাকা না দিয়ে কোন প্রকার চালাকি করলে কিংবা আইনের আশ্রয় নিলে ঘরে আগুন দেয়াসহ গরু নিয়ে যাওয়া হবে। জানমালেরও নিরাপত্তা থাকবে না। এলাকার কিছু চিহিৃত মাদকসেবীরা এ ঘটনা ঘটাতে পারে বলে তাদের ধারনা। ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে আসা শরণখোলা থানার এসআই আমির হোসেন ও সুদেব পাল জানান, তদন্ত শুরু করা হয়েছে। সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ দিলীপ কুমার সরকার জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছিল। ঘটনার সাথে জড়িতদের কেউকে ছাড় দেয়া হবেনা।
