চোখের আলো ফিরে পেয়ে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা দিতে চায় জান্নাতী
এক সপ্তাহের জ¦রে হঠাৎ দু’চোখে দেখতে না পাওয়ায় চলমান প্রাথমিক সমাপনীর মডেল টেষ্ট পরীক্ষা দেয়া হল না জান্নাতির। তবে চোখের আলো ফিরে পেয়ে সে এ বছরের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা দিতে চায়। জান্নাতী উপজেলার মধ্য ইন্দুরকানী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর ছাত্রী। এ বছরের নভেম্বর মাসে সমাপনী পরীক্ষায় তার অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে।
জন্মের ২২ দিন আগে পিতা জহিরুল ইসলাম খোকনকে হারিয়েছেন জান্নাতী আক্তার। আর জন্মের তিন মাসের মাথায় মা সালমা বেগম তাকে ফেলে রেখে চলে যায় অন্যের ঘরে। তাই জান্নাতী তার জন্মকে আজন্ম পাপ বলে মনে করেন। ২০০৭ সালে জন্মের পরে দাদার সংসারেই বড় হয়েছে জান্নাতী। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে জ্বরে আক্রান্ত হয় সে। ধীরে ধীরে সেই জ্বর মারত্মক রূপ ধারণ করে। গত এক সপ্তাহ ধরে দুই চোখে কিছুই দেখতে পায় না জান্নাতী। আর মাথায় রয়েছে প্রচন্ড যন্ত্রনা।
এরপর তাকে ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। কিন্তু তাতে কোন কাজ না হওয়ায় পরে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে খুলনা নেয়া পরামর্শ দেন। কিন্তু খুলনার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে ঢাকা নিয়ে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। জান্নাতীর দাদা দিনমজুর জব্বারের পক্ষে চিকিৎসার খরচ বহন করা একেবারে অসম্ভব। তাই সে সকলের সহযোগিতা চায়।
পরে ইন্দুরকানী প্রবাসী ফাউন্ডেশন ও উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদীর সহায়তায় তাকে ঢাকা নেয়া হয়। শনিবার জান্নাতিকে উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী নিজে উপস্থিত থেকে নিজ দায়িত্বে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সাইন্স হাসপাতালে ভর্তি করান।
উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী জানান, জান্নাতীর চোখের আলো ফিরে পেয়ে যাতে এবছর সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারে সেজন্য তার চিকিৎসাসহ সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
জান্নাতীর সাথে আলাপকালে কান্না জড়িত কন্ঠে বলে, আপনারা আমাকে সহযোগিতা করুন। আমি চোখের আলো ফিরে পেয়ে সুস্থ হয়ে সমাপানী পরীক্ষা দিতে চাই।
তাই সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে জান্নাতী ফিরে পেতে পারে তার হারানো দৃষ্টি শক্তি ও সুষ্ঠ জীবন। এই অসহায় জান্নাতীকে সহযোগিতা করতে ০১৭১২৩৩৪৪০০ নাম্বারটিতে যোগাযোগের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।
