মঠবাড়িয়ায় যৌতুকের দাবীতে গৃহবধূকে নির্যাতন ॥ থানায় মামলা
মঠবাড়িয়ায় যৌতুকের দাবীকৃত তিন লাখ টাকা না পাওয়ায় ফাতিমা বেগম (২৫) নামের এক গৃহবধূকে বুধবার সন্ধ্যায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন। গুরুতর জখম গৃহবধূকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় নির্যাতিতা গৃহবধূ ফাতিমা বেগম বাদী হয়ে বুধবার গভীর রাতে স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবর-ননদকে আসামী করে মঠবাড়িয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তেতুলবাড়িয়া গ্রামের ইউসুফ হাওলাদারের মেয়ে মাহামুদা বেগমের সাথে প্রায় ৭ বছর পূর্বে একই গ্রামের আলম হাওলাদারের ছেলে ইব্রাহিমের ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে হয়। ওই সময় দুই লাখ টাকার মালামাল দিয়ে ফাতিমার পিতা তাকে স্বামীর গৃহে তুলে দেয়। এর কিছুদিন পর মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে ফাতিমার কাছে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবী করে। শ্বশুর মোটরসাইকেল কেনার জন্য জামাইকে ৭০ হাজার টাকা দিলে ওই টাকা ইব্রাহিম খরচ করে ফেলে। এর কিছুদিন যেতে না যেতেই ঢাকায় টেইলার্সের দোকান দেবার কথা বলে ইব্রাহিম ফাতিমার বাবার কাছ থেকে চার লাখ টাকা যৌতুক নেয়। পরে ইব্রাহিম গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে দোকানে মালামাল কেনার কথা বলে পুনরায় স্ত্রীর কাছ থেকে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবী করে। উক্ত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে বুধবার সন্ধ্যায় শাশুড়ি ও ননদের প্ররোচনায় স্বামী, শ্বশুর, দেবর মিলে হত্যার উদ্দেশ্যে ফাতিমা বেগমকে চুলের মুঠি ধরে মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা ফাতিমাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম ছরোয়ার মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
