মজুদ রাখার অপরাধে ইউপি চেয়ারম্যানকে শোকজ
মঠবাড়িয়ায় জেলেদের ভিজিএফ চাল প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিলি
মঠবাড়িয়ায় আড়াই মাস পূর্বে জেলেদের নামে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ এর চাল উত্তোলন করে অবৈধভাবে মজুদ রাখার পর উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিতরণ করা হয়। সোমাবার দুপুরে ৬নং টিকিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের গুদামে জেলেদের ভিজিএফ এর চাল মজুদ রয়েছে এমন অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা গুদামে রাখা ৩৬ বস্তা চাল জব্দ করে উপস্থিত জেলেদের মাঝে বিতরণ করেন।
উপজেলার ৬নং টিকিকাটা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবু হানিফ সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন যে, ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রিপন ৩০জন জেলের জনপ্রতি জেলেদের ৪০ কেজি করে চার মাসে ১৬০ কেজি চাল উত্তোলন করে জনপ্রতি ২০ কেজি করে বিতরণ করেছেন। বাকি চাল গুদামে মজুদ করে রেখেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিএম সরফরাজ এমন অভিযোগ পেয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে তাৎক্ষনিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
নির্দেশ পেয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক সরেজমিনে গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের গুদামে অবৈধভাবে ৩৬ বস্তা চাল মজুদ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ওই ইউনিয়নে ৩০জন জেলের জনপ্রতি চার মাসে ১৬০ কেজি চাল উত্তেলন করে মে মাসের মধ্যে ২০ জন জেলেকে বিতরণ করে। বাকি ১০ জন জেলের চাল বিতরণ না করে মজুদ করে রাখে।
ক্ষুদ্র মৎসজীবী জেলে সমিতি মঠবাড়িয়া শাখার সভাপতি রফিকুল ইসলাম জালাল জানান, উত্তোলন করা চাল ২০/২৫ কেজি করে কয়েক জন জেলেদের মাঝে বিতরণ করে বাকি চাল অবৈধভাবে মজুদ করে রাকা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রিপন এর আগেও জেলেদেও চাল বিতরণে অনিয়ম করেছেন। যা জেলা প্রশাসকের টাস্কফোর্স সভায় অভিযোগ করলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
ইউপি চেয়াম্যান রফিকুল ইসলাম রিপন জেলেদের চাল মজুদ করার প্রসঙ্গে বলেন, ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকায় সময়মত ১০ জন জেলেকে চাল বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিএম সরফরাজ জানান, নির্ধারিত সময়ে চাল বিতরণ না করে অবৈধভাবে মজুদ রাখার অপরাধে কেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না এ মর্মে ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে কারন দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। জবাব পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
