ইন্দুরকানীতে শিক্ষক লাঞ্ছনার বিচার না হওয়ায় শতাধিক ছাত্রের মাদ্রাসা ত্যাগ
ইন্দুরকানীতে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনার বিচার না হওয়ায় ক্ষোভে শতাধিক ছাত্র মাদ্রাসা ছেড়ে চলে গেছে।
উপজেলার বালিাপাড়া কওমী মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. ইব্রাহিম খান শিক্ষকদের সাথে অশালীন আচরণ করার ৬ দিন পর এর কোন বিচার না হওয়ায় ক্ষোভে শতাধিক শিক্ষার্থী বুধবার বিকেলে তাদের বই পত্র ও মালামাল নিয়ে মাদ্রাসা ছেড়ে চলে যায়।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ওই মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক এমদাদুলের সাথে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. ইব্রাহিম খানের নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে তিনি ওই শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনার জের ধরে মাদ্রাসার কিতাব বিভাগের ছাত্ররা শিক্ষককে লাঞ্ছনা করার বিচার চেয়ে বিক্ষোভ করলে কর্তৃপক্ষ মাদ্রাসা অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটি ঘোষণা করেন। পরে বিষয়টি সুরাহার জন্য মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির বৈঠকে শিক্ষক লাঞ্ছনার বিচার না করে ছাত্রদের উষ্কানি দেয়ার অভিযোগে শিক্ষক এমদাদুল হোসেনকে বহিষ্কার করেন। অপর দুই শিক্ষক আতিকুল ইসলাম ও ইমরান হোসেন চাকরি ছেড়ে চলে যায়। এই খবরে কিতাব বিভাগের অধিকাংশ ছাত্ররা বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে মাদ্রাসা ছেড়ে চলে যায়।
মাদ্রাসা ত্যাগকারী কিতাব বিভাগের ছাত্র তামিম, জমির ও আসাদ জানান, আমাদের শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করা হয়েছে। কিন্তু তার কোন বিচার না করে উল্টো তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। তাই আমরা মাদ্রাসা ছেড়ে চলে আসছি।
মাদ্রাসার শিক্ষক এমদাদুল হোসেন জানান, আমাদেরকে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. ইব্রাহিম খান লাঞ্ছিত করায় ছাত্ররা বিক্ষুব্দ হয়েছে। এর কোন সুরাহা না করে আমাদেরকে উল্টো ছাত্র বিক্ষোভের উষ্কানি দেয়ার অভিযোগ আনায় আমরা পদত্যাগ করেছি।
মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মো. ইব্রাহিম খান জানান, ছাত্রদের উষ্কানি দিয়ে মাদ্রাসার পরিবেশ নষ্ট করায় ১ জন শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং অপর দুই শিক্ষক চাকরি ছেড়ে চলে গেছে। ছাত্ররা ক্ষোভে কিছু গেলেও তারা আবার ফিরে আসবে।
