প্রধান সূচি

টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত ॥ ডুবে গেছে ধান ক্ষেত

গত কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণে পিরোজপুরের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই তেমন একটা বৃষ্টি না হলেও শ্রাবণ মাসে কম বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। গত ২ দিনের বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নীচু এলাকা বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

পানিতে ডুবে গেছে ধানসহ ফসলের ক্ষেত। এতে ধানসহ সজবির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন গ্রামের নিচু এলাকার বাড়ি ঘরে আঙিনায় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবনে দূর্ভোগ বেড়েছে। পিরোজপুর পৌর শহরের সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকায় যাতায়াতে বেড়েছে জন দূর্ভোগ।

টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশী বিপাকে পড়েছেন নি¤œআয়ের শ্রমজীবী মানুষেরা। বর্ষণের কারণে দিন মজুরা কাজ করতে পারেনি। অনেকেই বাড়ি হতে বের হতে পারেনি। এছাড়া বৃষ্টির কারণে বেচা-কেনা না হওয়ায় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

এদিকে, পিরোজপুরে গত ৩ দিনের বৃষ্টিতে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধানের ক্ষয়ক্ষতিতে হাজার হাজার কৃষক পরিবার-পরিজন নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। আগামীতে রবি ফসল ও বোরো মৌসুমে ফসলের আবাদ কীভাবে করবেন সেই চিন্তায় দিশেহারা কৃষকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেড়িবাঁধ ও খালের স্লুইসগেট না থাকায় জোয়ারের পানি আমন ধানের খেতে প্রবেশ করে তলিয়ে যায়। বৃষ্টিপাতে অনেক কৃষকের আমন ধান ও সবজি ক্ষেত বিনষ্ট হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, আমন খেতে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। কলাখালি, শংকরপাশা, জুজখোলা, পোরগোলা, শারিকতলা ও দূর্গাপুরসহ বিভিন্ন এলাকার আমন ধান ও সবজি ক্ষেত পানিতে ডুবে আছে। কোথাও কোথাও আমন ধানের গাছ ও সবজি পচে গেছে। ফলে আমন ধানের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। হাজার হাজার একর জমিতে শাক-সবজির চাষ করে বিপাকে পড়েছেন তারা। আরও ২-৩ দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আমন ধান ও সবজি ক্ষেত সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা কৃষকদের।

সদর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের কচুবুনিয়া গ্রামের চাষি মাসুম বিল্লাহ বলেন, ৪ কাঠা জমিতে আমন চাষ করেছি। এখন আমন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে আছে। কিছু কিছু ধান পচে গেছে। এভাবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে সব ধান পচে যাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, চলতি বছর জেলার সাত উপজেলার ৫১টি ইউনিয়ন এবং ৪টি পৌর এলাকায় মোট ৬১ হাজার ৬৫৯ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা থেকে ১ লাখ ৪ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবু হেনা মোহাম্মদ জাফর বলেন, জেলার সাত উপজেলার ৫১টি ইউনিয়ন এবং ৪টি পৌর এলাকায় মোট ৬১ হাজার ৬৫৯ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কিছু জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial