কলাতলা ইউপি সদস্যদের সংবাদ সম্মেলন ও স্থানীয়দের মানববন্ধন
চিতলমারীতে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ
বাগেরহাটের চিতলমারীতে কলাতলা ইউনিয়নের বহুল আলোচিত চেয়ারম্যান শিকদার মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই ইউনিয়নের ইউপি সদস্যরা। রবিবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় উপজেলার মচন্দপুর ঘাট এলাকায় ইউপি সদস্য সোহাগ শেখের সভাকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান, আবু সাইদ, কামরুল ইসলাম, মো. শেখ সোহাগ, মো. এমদাদুল, আলম খান, জাকির হোসেন, সংরক্ষিত ইউপি সদস্য মাহফুজা বেগম, হাজেরা, ও শাহানা পারভীনসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সুধী সমাজ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে (৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের) সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য মাহফুজা বেগম জানান, ২নং কলাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিকদার মতিয়ার রহমানের ক্ষমতার দাপট, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে তারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। চেয়ারম্যানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে তিনি চটে গিয়ে বলেন ‘আমি বিনা ভোটের চেয়ারম্যান। কোন ইউপি সদস্যদের ঠ্যাঙ্গানোর টাইম নাই। দেহিস নাই এক বড় নেতার বারোটা কিভাবে বাজিয়েছি। আর তোরাতো চুনো পুটি।’
বর্তমানে ওই চেয়ারম্যানের অত্যাচারে পরিষদের প্রায় সকল সদস্য অতিষ্ঠ। সম্প্রতি সে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ইউনিয়নের গরীব ও দু:স্থদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাউল আত্মসাৎ করে পাটগাতি বাজারে বিক্রি করে দেয়। ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয় হতে দু:স্থদের জন্য বরাদ্দকৃত জনপ্রতি একলক্ষ টাকা মূল্যের জমি আছে ঘর নাই এমন ব্যক্তিদের বসত ঘর দেওয়ার কথা বলে প্রত্যেক ইউপি মেম্বারের কাছে থেকে ৩০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদে বসে চেয়ারম্যান ক্ষমতার দাপট দেখান। মহিলা মেম্বারদের সামনে অশ্র্যাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। কিন্তু ভয়ে ইউপি সদস্য ও সাধারণ মানুষেরা এই নিরব নির্যাতনের কথা কাউকে বলতে পারছেন না।
১নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য শেখ সোহাগকে প্যানেল চেয়ারম্যান করার জন্য সকল ইউপি সদস্য সমর্থন করলেও গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরন না করে ব্যক্তি ক্ষমতা ও দাপটের বলে উক্ত চেয়ারম্যান বিএনপির খাস লোক সিদ্দিক মোল্লাকে প্যানেল চেয়ারম্যান করেছেন। বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধি, বিধবাভাতাসহ সকল প্রকার ভাতার জন্য ভাতার জন্য চেয়ারম্যান প্রকাশ্যে অর্থ গ্রহণ করেন। ইউনিয়ন পরিষদের নতুন কোন কাজ এলে উক্ত কাজ পাওয়ার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে অগ্রিম “কমিশনের টাকা” দিতে বাধ্য হন মেম্বাররা। যে মেম্বার অগ্রিম টাকা না দেন তিনি কোন কাজ পান না। এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের কাছে মেম্বাররা অভিযোগ দিতে গেলে তারা বিষয়টি এমপি মহোদয়কে জানাতে বলেন। উপজেলা প্রশাসনও চেয়ারম্যান মো. মতিয়ার শিকদারের ক্ষমতার দাপটকে ভয় পান। দুর্নীতিবাজ এই চেয়ারম্যানের সকল প্রকার অন্যায় ও দুর্নীতি প্রতিরোধ করার জন্য সংবাদ সম্মেলনে ইউপি সদস্যরা দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলন শেষে চর চিংগুরি ঘাট এলাকায় কলাতলা ইউপি সদস্যরা, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নের্তৃবৃন্দ ও সুধি সমাজের লোকজন চেয়ারম্যান শিকদার মতিয়ার রহমানের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন। তারা ইউপি চেয়াম্যান শিকদার মতিয়ার রহমানের অবৈধ দাপট, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যহার প্রতিহত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এ বিষয়ে কলাতলা ইউপি চেয়ারম্যান শিকদার মতিয়ার রহমান জানান, সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। স্থানীয় একটি মহল তার রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য এ সকল অপপ্রচার চালাচ্ছে।
