ইন্দুরকানীতে ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়ম
ইন্দুরকানীতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বরাদ্ধকৃত ভিজিএফ চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের প্রতিবাদে চাল বিতরণ সাময়িক বন্ধও করে রাখা হয়। পরে ইউএনওর হস্তক্ষেপে ২ ঘন্টা পর বিতরণ শুরু। জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল দেয়ার বিধান থাকলেও দেয়া হচ্ছে ৫ থেকে সাড়ে কেজি করে।
গতকাল বুধবার উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নে বৌডুবী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ইউপি সদস্যদের যোগসাজসে দুঃস্থদের চাল পরিমাপে কম দেয়ায় এলাকাবসীর প্রতিবাদে চাল বিতরণ বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। ২ ঘন্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এলে আবারও বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু এরপরও জনপ্রতি ৯ কেজি করে বিতরণ করা হয়।
জানা গেছে, উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের ১নং বৌডুবী ওয়ার্ডে চাল বিতরণকালে মোশাররফ পেয়াদা, খোকন তালুকদারের চাল মেপে দেখা যায় তারা প্রত্যেকে ৪ কেজি ৫শ’ গ্রাম করে পেয়েছেন। একই ওয়ার্ডের পলাশ ও আঃ রশিদকে ১০ কেজির স্থলে ৫ কেজি ৫শ’ গ্রাম করে চাল দেয়া হয়েছে। চাল বিতরণকালে কোন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা না থাকায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে দুঃস্থদের চাল কম দেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। চাল বিতরণের সময় উপস্থিত উপজেলা জেপির সহ-সভাপতি কাওসার আহম্মেদ দুলাল জানান, ১নং নলবুনিয়া ওয়ার্ডের বিতরণকৃত ভিজিএফের ১০ জনের চাল মেপে দেখা যায় সাড়ে চার কেজি থেকে সাড়ে পাঁচ কেজি করে দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পাড়েরহাট ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার বাবুল জানান, পাড়েরহাট ইউনিয়নের ১নং নলবুনিয়া ওয়ার্ডে তালিকার চেয়ে অতিরিক্ত লোক আসায় ১০ কেজি দু’জনকে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। এনিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হলে চাল বিতরণ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। পরে সবার সাথে আলোচনা করে জনপ্রতি ৯ কেজি করে দেয়া হয়।
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ট্যাক অফিসার) উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসাদুল্লাহ জানান, বুধবার ছুটির দিন পাড়েরহাট ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হবে তা আমি জানি না। তাই চাল বিতরণে আমি উপস্থিত থাকতে পারিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ জানান, পাড়েরহাট ইউনিয়নে ভিজিএফ বিতরণের অভিযোগ পাওয়ায় বিতরণ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। পরে নতুন ট্যাক অফিসার পাঠিয়ে নিয়মানুযায়ী পুনরায় চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়।
