প্রধান সূচি

১৩ দিনেও গ্রেফতার হয়নি স্কুল ছাত্রী মুক্তা হত্যাকারী

পিরোজপুরর কাউখালী উপজেলার দাশেরকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী মুক্তা আক্তার (১৩) হত্যার ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার মূল আসামী বখাটে পারভেজকে এখনো গ্রেফতার করতে পরেনি পুলিশ। সেই সাথে খুনের কারণও উদঘাটন করতে পারেনি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এদিকে, স্কুল ছাত্রী মুক্তাকে পাশবিক নির্যাতন ও হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে গত মঙ্গলবার সকালে কাউখালী উপজেলা পরিষদ সড়কে মানববন্ধন করেছে কাউখালী মহিলা পরিষদ। মহিলা পরিষদের সভানেত্রী সুনন্দা সমাদ্দারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদরে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুজ্জামান পল্টন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুনীল কুন্ডু, নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা ইয়াসমিন পপি, ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ খান খোকন, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি সুব্রত রায়, শিক্ষানুরাগী আবদুল লতিফ খসরু, নিহতের মা মোসাঃশানু বেগম, মুক্তার বড় বোন হিরা আক্তার প্রমূখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, শিশু মুক্তাকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। এই হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে দেশের আইন-শৃঙ্খলার সার্বিক চিত্র উঠে এসেছে। পাশাপাশি সমাজের মানবিক মূল্যবোধের করুণ অবস্থাও ফুটে উঠেছে। তাই বক্তারা দ্রুত শিশু মুক্তা হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, গত ৩০এপ্রিল রাতে দাশেরকাঠি গ্রামের খাল থেকে মুক্তা আক্তার (১৩) নামের এক স্কুলছাত্রীর অর্ধ উলঙ্গ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মুক্তার মা শানু বেগম জানান, সোমবার দুপুরে ঝড় হয়। দুপুর ১২টার দিকে মুক্তা বাড়ির পাশের বাগানে আম কুড়াতে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। তার নিখোঁজের সংবাদ এলাকায় মাইকিং করে জানানো হয়। ওই দিন রাত ১০টার দিকে বাড়ির পাশের দাশেরকাঠি খালে একটি লাশ ভাসতে দেখে এলাকার লোকজন। খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। লাশটি মুক্তা আক্তারের বলে শনাক্ত করা হয়। মুক্তার বাবা হিরু মহাজনের ভাষ্য, প্রতিবেশী পারভেজ মহাজন তার মেয়েকে প্রায়ই উত্যক্ত করতেন। পারভেজ ও তার চাচাতো ভাই সোহেল মুক্তাকে হত্যা করে খালে লাশ ফেলে দিয়েছেন বলে তার সন্দেহ।

লাশ উদ্ধারের ঘটনায় শনিবার ১ মে মুক্তার মা শানু বেগম বাদী হয়ে কাউখালী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় দু’জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৩/৪জনকে আসামি করা হয়। ওইদিনএজাহার ভুক্ত আসামী সোহেল মহাজন (৩৩)কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্ত মামলার প্রধান আসামী পারভেজকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

হত্যাকারী পারভেজের বিরুদ্ধে কাউখালীতে দিনে-দুপুরে এনজিও আশা’র মাঠ কর্মীকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই, ২০১৬ সালের ২৯ জুলাই আশ্রম রোডে বোমা ফাটিয়ে ব্যবসায়ীদের টাকা ছিনতাই এবং মোটর সাইকেল চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, পারভেজকে   গ্রেফতারে পুলিশ জেলা ও জেলার বাইরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial