সংবাদ সম্মেলনে প্রতিপক্ষের অভিযোগ
ধর্ষণ মামলার যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত আসামী পিরোজপুর জেলা পরিষদের সদস্য
ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত কামরুজ্জামান সিকদার নির্বাচন কালে তথ্য গোপন করে পিরোজপুর জেলা পরিষদের সদস্য পদে বিজয়ী হয়ে বর্তমানে এ পদের সকল সুবিধা ভোগ করছেন। সম্প্রতি এ ব্যাপারে সুপ্রীম কোর্টের হাই কোর্ট ডিভিশনে এক রিট পিটিশন দাখিল করে রিটকারী মঙ্গলবার পিরোজপুর প্রেসক্লাবে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
হাইকোর্টে রিট আবেদনকারী পিরোজপুর সদর উপজেলার কলাখালী ইউনিয়নের দাউদপুর এলাকার বাসিন্দা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নারায়ন চন্দ্র আইচ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিগত পিরোজপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। কামরুজ্জামান সিকদার ওরফে মিঠু উক্ত নির্বাচনে এ পদে বিজয়ী হলেও নির্বাচনের সময় দাখিলকৃত মনোনয়ন পত্রের হলফনামায় তিনি তথ্য গোপন করেছেন। হলফনামায় তিনি পিরোজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় আদালত থেকে যাবজ্জীবন সাজা ও ২০ হাজার টাকার জরিমানার আদেশপ্রাপ্ত তা উল্লেখ করেন নি। ২০০৪ সালের ২০ মে পিরোজপুর সদর থানায় দায়েরকৃত মামলায় সিকদার মল্লিক গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে কামরুজ্জামান ওরফে মিঠুকে আদালত একটি হিন্দু যুবতীকে অপহরন ও ধর্ষণ করার অপরাধে আরো তিন আসামীর সাথে এ সাজা দেন। ২০০৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর এ আদেশ দেয়ার পর হাই কোর্টে আপিল করে ২০০৭ সালের ২ অক্টোবর কামরুজ্জামান সুপ্রীম কোর্টের আদেশে জামিনপ্রাপ্ত হলেও আদালত তার দন্ডাদেশ স্থগিত না করায় আদেশ বহাল থাকে। জামিনে মুক্তি পেয়ে সে ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর পিরোজপুর জেলা পরিষদের সদস্য পদে নির্বাচন করে বিজয়ী হন।
সংবাদ সম্মেলনে নারায়ন চন্দ্র আইচ বলেন, এ তথ্যটি তার অজানা থাকায় জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রাক্কালে তিনি এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে আপত্তি জানাতে পারেন নি। সম্প্রতি বিষয়টি জানার পর গত ১১ এপ্রিল হাইকোর্টে এ সংক্রান্ত একটি রিট পিটিশন দাখিল করেছেন। পাশাপাশি কামরুজ্জামানের মনোনয়ন অবৈধ বলে ঘোষণা দিয়ে তার জেলা পরিষদের সদস্যপদ শুণ্য ঘোষণা করে উক্ত পদে নারায়ন চন্দ্র আইচকে নির্বাচিত ঘোষণার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি দাবী জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলন কালে জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও সিকদার মল্লিক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম, কলাখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুজ্জামান শিমুল, কলাখালী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জমান হাওলাদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, এ বিষয়ে কামরুজ্জামান ওরফে মিঠু জানান, নি¤œ আদালতের দেয়া সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপলি করলে হাইকোর্ট আমার সাজা স্থগিত করে আমাকে জামিন দিয়েছে। বর্তমানে মামলাটি হাইকোর্টে বিচারাধীন আছে। এছাড়া আমি জেলা পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্রের হলফ নামায় কোন তথ্য গোপন করিনি। জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে পরাজিত প্রার্থী মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করে আমাকে হয়রানী করছে।
