পিরোজপুরে ইউপি মেম্বারের বিরুদ্ধে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ॥ মামলা দায়ের
পিরোজপুর সদর উপজেলার ৬নং শারিকতলা-ডুমরিতলা ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়াডের্র সদস্য মিজানুর রহমান মিজান মল্লিকের বিরুদ্ধে বিয়ের নাটক সাজিয়ে এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার নির্যাতিত কলেজ ছাত্রীর ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পর্ন্ন হয়েছে।
শুক্রবার রাতে ধর্ষনের শিকার সরকারি সোহরওয়ার্দী কলেজের ডিগ্রী ২য় বর্ষের ঐ ছাত্রী নিজে বাদী হয়ে পিরোজপুর সদর থানায় এ মামলা করেন। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান মিজান মল্লিক (৩০) সদর উপজেলার ৬নং শারিকতলা-ডুমরিতলা ইউনিয়নে পশ্চিম ডুমরিতলা গ্রামের সাহেব আলী মল্লিকের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের ডিগ্রী ২য় বর্ষের পড়–য়া ছাত্রীর সাথে শারিকতলা-ডুমরিতলা ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য মিজানুর রহমান মিজান ওরফে মিজান মল্লিক এর মোবাইল ফোনে কথা বলার মাধ্যমে পরিচয় হয়। এরপর দীর্ঘদিন মোবাইলে কথা বলার এক পর্যায়ে মিজান বিয়ের প্রলোভন দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলে। গত ১ জানুয়ারী কলেজ ছাত্রীর সাথে জরুরী কথা আছে বলে মোবাইলে শহরে আসতে বলে। এ সময় মিজান মল্লিক তাকে নিয়ে শহরের বলাকা ক্লাব সড়কে একটি বাসায় নিয়ে গিয়ে তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু প্রথমে কলেজ ছাত্রী রাজী না হলেও পরে পরিস্থির কারণে সে বিয়েতে রাজী হয়। এরপর শারিকতলার এলাকার কাজী কালামের মাধ্যমে ও মিজান মল্লিকের বন্ধু সাইফের সাক্ষীতে একটি মিথ্যা বিয়ের কাবিননামায় উক্ত কলেজ ছাত্রীর স্বাক্ষর নিয়ে তাদের মধ্যে বিয়ে হয়েছে বলে জানায়। এরপর মিজান কলেজ ছাত্রীকে সাথে নিয়ে কলেজ ছাত্রীর বাড়িতে যায় এবং কলেজ ছাত্রীর মায়ের কাছে তাদের বিয়ে হয়েছে বলে জানায়। সেই রাত থেকেই তারা দুজনে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে মেলামেশা করে আসছিল। তবে কয়েকদিন যেতে না যেতেই মিজানের বিভিন্ন আচারণে তাদের সন্দেহ হলে কলেজ ছাত্রীর পরিবার থেকে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে যে মিজান আগে থেকেই বিবাহিত। তাদের কাছে আগের বিবাহের কথা গোপন রেখে সে কলেজ ছাত্রীকে বিবাহ করছে। বিষয়টি কলেজ ছাত্রী জানতে পেরে মিজান মল্লিকের কাছে স্ত্রীর মর্যাদা দাবী করলে মিজান মল্লিক তাকে বিয়ে করার কথা অস্বীকার করে। এরপর কলেজ ছাত্রী খোঁজ নিয়ে আরো জানতে পারে যে, মিজান তাকে বিয়ে করার নামে মিথ্যা নাটক করেছে। কাবিননামাটি ছিল ভুয়া। এবং তার সাথে প্রতারণা করে দীর্ঘদিন স্বামী-স্ত্রীর ন্যায় মেলামেশা করেছে।
শুক্রবার (২৩ মার্চ) এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানায় মিজানকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়।
পিরোজপুর সদর থানার ওসি এস এম জিয়াউল হক জানান, শনিবার কলেজ ছাত্রীকে ডাক্তারী পরীক্ষা করানো হয়েছে। অভিযুক্ত ইউপি মেম্বার মিজান মল্লিককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
