নাজিরপুরে মস্জিদ ভবন নির্মাণ কাজে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ
নাজিরপুর উপজেলার মালিখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝনঝনিয়া গ্রামে মসজিদের ভবন নির্মাণ কাজে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে দক্ষিণ ঝনঝনিয়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদের নির্মাণাধীন ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন এ অভিযোগ করেন মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দসহ মুসল্লীরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নজরুল ইসলাম শেখ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯১০ সালে দক্ষিণ ঝনঝনিয়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। নদী ভাঙ্গনে মসজিদ ক্ষতিগ্রস্থ হলে নদী তীরে ছোট আকারে একটি টিনের মসজিদ ঘর তৈরী করা হয়। দিন দিন মুসল্লীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় মাওলানা মুনসুর আহম্মেদ মসজিদের ভবন নির্মাণের জন্য ১৩ শতক জমি মসজিদের নামে দান করেন। ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে ওই জায়গার ওপর মসজিদের ভবন নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। কাজ শুরুর কয়েকদিন পরে স্থানীয় মৃত তাছেন উদ্দিনের ছেলে ছিদ্দিকুর রহমান ও তার বোন হোসনে আরা আক্তার করিমন ওই জায়গার মধ্যে তাদের সম্পত্তি রয়েছে বলে মসজিদের নির্মাণ কাজে বাঁধা প্রদান করে। নির্মাণ কাজ করতে হলে তাদের ৫লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে দাবী করে। দাবীকৃত টাকা না দিলে তাকে (সভাপতি) হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়। এ ঘটানার পর নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হয়।
এক পর্যায়ে তাদের দাবীর বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ গন্যমান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে একাধিকবার শালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ওই শালিস বৈঠকে তারা তাদের দাবীর স্বপক্ষে কোন কাজগপত্র উপস্থাপন করতে পারে নাই।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ আতাহার আলী শেখ জানান, মসজিদের নির্মাণ কাজের শুরু থেকেই অভিযুক্তরা চাঁদা দাবীসহ বিভিন্ন ভাবে নির্মাণ কাজে বাঁধা প্রদান করে আসছে। আর এ ঘটনায় একাধিকবার শালিশ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ওই বৈঠকে তারা তাদের দাবী প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত হোসনে আরা আক্তার করিমনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ওই সম্পত্তি তার মায়ের ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া এবং তিনি নিজেও তার নানার কাছে সাব কবলা দলিল মুলে ক্রয় করেছেন। তবে এ সংক্রান্তে কোন দালিলিক প্রমান তিনি দেখাতে পারেনি।
