প্রধান সূচি

পালিত হলোনা কেন্দ্রীয় বিক্ষোভ কর্মসূচী

নেতৃত্ব কোন্দলে স্বরূপকাঠি উপজেলা বিএনপি

বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলায় দেয়া রায়ের প্রতিবাদে স্বরূপকাঠিতে কোনো কর্মসুচি পালিত হয়নি। দলের কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচী বিভিন্ন জায়গায় কমবেশি পালনের খবর পাওয়া গেলেও এ উপজেলায় দলীয় নেতা কর্মিদের মধ্যে এর কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তেমন কোনো তৎপরতাও দেখা যায়নি তাদের মধ্যে।

তবে কিছু নেতা-কর্মী বলেছেন পুলিশি হয়রানি ও নির্যাতনের ভয়ে ৮ তারিখের আগে থেকেই তাদের আত্মগোপনে থাকতে হচ্ছে। মূলত স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির একাধিক কমিটি ও নেতৃত্বের কোন্দলের কারনে উপজেলা বিএনপির কমিটি থেকে পদপদবী বঞ্চিত নেতাদের কেউ এগিয়ে এসে আন্দোলন সংগ্রামে ভুমিকা রাখতে চাচ্ছে না।

স্থানীয় দলীয় সূত্রে জানাযায়, বিগত ২০০৯ সালে উপজেলা বিএনপির সম্মেলনে প্রয়াত মতিউর রহমানকে সভাপতি ও বর্তমান স্বরূপকাঠি উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ ওয়াহিদুজ্জামানকে সম্পাদক করা হয়। সে সময়ে দলের সাংগঠনিক তৎপরতা বেশ ভালই চলছিল। পরে সভাপতি মতিউর রহমান সিকদারের মৃত্যুতে শূন্য হয়ে পড়ে দলটির সভাপতির পদ। পিরোজপুর জেলা বিএনপির তখনকার আহবায়ক গাজী নুরুজ্জামান বাবুল ও ১নং যুগ্ন আহবায়ক মোঃ আলমগীর হোসেন আসেন জেলার দায়িত্বে। তখন সে কমিটি ভেঙ্গে ২০১০ সালে কমিটির সাধারন সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামানকে বাইরে রেখে মোঃ ফকরুল আলমকে আহবায়ক করে গঠিত হয় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি। সে থেকেই ভাটা পড়ে স্বরূপকাঠি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে। নেতৃত্বের টানপোড়নে তখন থেকে দ্বিধাভিবক্ত হয়ে পড়ে উপজেলা বিএনপি। এর একটি পক্ষে নেতৃত্ব দেন এরশাদ বিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে দলের জন্য জীবনের বৃহৎ সময় অতিবাহিতকারী সাবেক সম্পাদক মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান। এবং অপর বলয়ের নেতৃত্ব দেন উপজেলার বালীহারি নিবাসী দানবীর মরহুম হাজী আব্দুর রহমানের ছেলে ব্যবসায়ী ফকরুল আলম।

দলের এ দৈন্যদশার কারন জানতে চাইলে ফকরুল বলয়ের উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির উদ্দীন তালুকদার বলেন, দলের এ র্দুদিনে সভাপতি ফকরুল আমাদের কোন নেতা কর্মীর সামন্যতম খোঁজ খবরও রাখছেন না। যে সময় যেটা ইচ্ছা তিনি তাই করছেন। মূলত দলের মধ্যে একাধিক গ্রুপিং দলের ত্যাগী নেতাদের যথার্থ মূল্যায়ন না করার কারনেই আজকে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে কিছুটা হলেও ভাটা লেগেছে।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, ২০১৬ সালের ১৪ই ফেব্রেুয়ারি উপজেলার বিবাদমান দু‘পক্ষ পাল্টা-পাল্টি সম্মেলন করে নতুন কমিটি ঘোষণা করেন। ওয়াহিদ বলয়ের সম্মেলনের উদ্ধোধন করেন জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একাধিকবার কারাবরনকারী নজরুল ইসলাম খাঁন এবং অপর বলয়ের উদ্ধোধনে থাকেন জেলা বিএনপির সভাপতি গাজী নুরুজ্জামান বাবুল। এ সম্মেলন থেকে ঘোষণা আসে দুটি কমিটির। বিষয়টি তৃণমুল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত জানাজানি হলে দ্বন্দ্ব নিরসনে জেলা নেতাদের কেন্দ্র থেকে অবগত করলেও দেখা যায়নি তার কোন অগ্রগতি। অবশ্য জেলা নেতাদের দাবী তারা দ্বন্দ্ব নিরসনে চেষ্টা করলেও তা অনেককে মানিয়ে নিতে পারেননি। তৃনমুল নেতা-কর্মীদের অনেকের ধারনা ছিল দলের বৃহৎ স্বার্থে তৃনমুলদের মতের প্রতি গুরাপ্তরোপ করে গ্রুপিং এর দুটি কমিটিকেই বাদ দিয়ে ডেলে সাজিয়ে একটি নতুন কমিটি উপহার দেওয়া হবে। তা না হয়ে আলাদা আলাদা কমিটি থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে বেগম জিয়ার এ দিনে এ উপজেলা থেকে আজকের এ  দৈন্যদশা।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial