হুমকির মুখে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
নাজিরপুরে সরকারি টাকায় মাঠ ভরাট দিতে অবৈধ বালু উত্তোলন
নাজিরপুরে কাজের বিনিময় খাদ্য (কাবিটা) কর্মসূচীর সরকারী টাকায় মাঠ ভরাট দিতে স্থানীয় একটি নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবী এ বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়ে হুমকীর মুখে পড়বে ওই নদী সংলগ্ন ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বাজার ও ষ্টেডিয়াম।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কাজের বিনিময় টাকা কর্মসূচীর আওয়াতায় একটি প্রকল্পে উপজেলার ষ্টেডিয়াম সংলগ্ন দক্ষিন পাশের একটি ডোবা ভরাট করতে ৩ লাখ ২ হাজার ৮শ’ ৬৭ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সদর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য তাজুল ইসলাম ওই প্রকল্পের সভাপতি। তবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান নিজেই ওই কাজটি করাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, গত শনিবার থেকে এ বালু উত্তোলনের কাজ শুরু হয়েছে। রবিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের সাথে কথা হলে শ্রমিক জাহিদুল ইসলাম জানান, বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ড্রেজারের মালিক উপজেলার গাওখালী গ্রামের নারায়ন মালি। তারা স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য সালাম মাঝির মাধ্যমে কাজটি পেয়েছেন। কাজটি উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের বলে ইউপি সদস্য সালাম মাঝি তাদের জানিয়েছেন। তিনিই বিস্তারিত বলতে পারবেন।
বালু ভরাটের স্থান থেকে মাত্র ২০ গজ দূরেই পাশের কালিগঙ্গা নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পাইপের সাহায্যে বালু দিয়ে ডোবাটি ভরাট করা হচ্ছে। বালু উত্তোলনের স্থান থেকে মাত্র ৩০ গজ পশ্চিমে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মাহিলা মহাবিদ্যালয় ও নাজিরপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। পূর্ব পাশে রয়েছে উপজেলা সদরের বাজার।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, এভাবে ওই স্থান থেকে বালু উত্তোলন করলে সেখানে নদী ভাঙ্গনের সৃষ্টি হবে। এতে বাজার ও ষ্টেডিয়ামসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২টি হুমকীর মুখে পড়বে। আর সবার আগে নদীতে ভেঙ্গে যাবে ভরাট করা স্থানটি।
প্রকল্প সভাপতি ইউপি সদস্য তাজুল ইসলাম বলেন, আমাকে ওই প্রকল্পের সভাপতি করা হলেও কাজের বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। উপজেলা চেয়ারম্যান নিজেই কাজ করাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মাহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ঠাকুর চাঁদ মজুমদার জানান, এভাবে বালু উত্তোলন করলে কলেজের সীমানা প্রাচীরসহ পূর্ব পাশ নদীতে ভেঙ্গে যাবে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ ইস্রাফিল জানান, ওই ডোবাটি ভরাটের জন্য সরকারী ভাবে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। বালু ক্রয় করে ভরাট দেয়ার কথা কথা। অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নাজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেন, কাজটি একটি প্রকল্প কমিটির মাধ্যমে হচ্ছে। এখানে নদী থেকে বালু ভরাট করা হলে তা পিআইও দেখবেন।
