ফেরি করে সালসা বিক্রি করছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম
ব্যাংক থেকে সকল মুক্তিযোদ্ধারা ভাতার টাকা তুলে নেন মুই নিতে পারলাম না, কতদিন মুই আর পথে পথে সালসা বেছমু, কথাগুলো ক্ষোভের সাথে বললেন ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া এখনও স্বীকৃতি না পাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধার আবুল হাসেম।
মহান মুক্তিযুদ্ধে সাবসেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর অবঃ জিয়াউদ্দিনের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে ছিলেন আবুল হাসেম। নানা প্রতিকুলতার মধ্যে নিজের নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে অন্তর্ভূক্ত করাতে পারেননি তিনি, ফলে করতে হচ্ছে দুর্বিসহ জীবন যাপন।
বেঁচে থাকার তাগিদে অন্যের কাছে হাত না পেতে গ্রামের বাগানের বনজি লতা পাতা দিয়ে নিজের হাতে তৈরি করেন সালসা। আর সেই সালসা মিনারেল ওয়াটারের পুরাতন বোতলে সংগ্রহ করে নিজের তৈরি সালসা ঐ বোতলে ভরে এ জনপদের হাট-বাজার, গ্রাম-গঞ্জে ফেরি করে বিক্রি করেন। তাইতো সে ফেরিওয়ালা।
তাকে দেখা গেল কাউখালী বাজার রোডে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে হাক ডাক দিচ্ছেন, ভাই নেন একটা সালসা নেন। কেউ যখন কিনছিলেন না তখন ঐ পথ থেকে যাওয়া কাউখালী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি আঃ লতিফ খসরু এই বীর মুক্তিযোদ্ধার সকল সালসা কিনে নিলেন এবং তার সমূদয় অর্থ তার হাতে দিলেন।
আশার কথা অনেক কষ্ট ও সংগ্রামের পর এ বছর হাসেম ভাইয়ের নামটি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাছাই বাছাই কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করে সুপারিশ সহকরে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করেছেন। এবার অপেক্ষার পালা হয়তো লাল ফিতায় আটকে গেছে এই মুক্তিযোদ্ধার নামটি। যে পর্যন্ত গেজেটভূক্ত হয়ে না আসে সে পর্যন্ত কিভাবে চলবে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম। এখন সে দিশেহারা কোথায় যাবে কি করবে কি খাবে কি ভাবে চলবে তার সংসার।
কাউখালী উপজেলার ৫নং শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের শিয়ালকাঠী গ্রামে বাড়ী হলেও স্ত্রী সাহা বানু, ছেলে হেলাল কে নিয়ে ঠাই হয়েছে চিরাপাড়ার নিভৃত এক চড়ে। এই যোদ্ধার চার মেয়ে বিবাহিত। বড়ছেলে হেলাল কাউখালী মহাবিদ্যালয়ের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র, ছোট ছেলে দেলোয়ার জাহাজ শ্রমিক।
কাউখালী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি আঃ লতিফ খসরু বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স¦পক্ষের একজন লোক হিসেবে যখন দেখি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফেরিকরে সালসা বিক্রি করে এ দৃশ্য আমাকে ব্যাথিত করেছে। আমি ক্ষুদ্র উদ্দ্যোগ নিয়েছি হয়তো বড় কোন উদ্দ্যোগ নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেমকে সহয়তা করতে এগিয়ে আসবেন ব্যাক্তি, সংস্থা, সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসন।
বীর মুক্তিযোদ্ধার আবুল হাসেম বলেন, মুই মুক্তিযুদ্ধের সময় এতো কষ্ট হরলাম মুক্তি যোদ্ধাগো নৈাকায় টানলাম, এহন মুই নাখাইয়া থাহি। মোর আর কষ্ট সহ্য হয়না, আইজগো হগোল সালসা খসরু বাবায় কিননা নেছে মুই যে কি খুসি হইছি মুউ কইতে পারমুনা। পিরোজপুরের বড় স্যারে ( ডিসি) মোরে মাঝে মাঝে টাহা পয়সা দেছে। কাউহালির বড়স্যারে (নির্বাহী অফিসার) মোরে টাহা পয়সা দেছে। মুই হুনছি মোর নামডা লিষ্টে ওঠছে কবেযে আইবে হেইয়া মুই জানিনা হেইপর্যন্ত মু মাইয়াপোলা লইয়া খামু কি?
