টাকার অভাবে চিকিৎসা চলছেনা মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক ফরাজীর
মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি :
একাত্তরে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক ফরাজী (৭২) আজ জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। অর্থের অভাবে চিকিৎসা চলছে না তার। একাধিকবার স্ট্রোক করা ফজলুল হক বর্তমানে প্যারলাইসিসে আক্রান্ত হয়ে মঠবাড়িয়া হাসপাতালে শয্যাশায়ী অবস্থায় আছেন। কিন্তু অর্থাভাবে তার চিকিৎসা করাতে পারছে না স্বজনরা। তার পরিবার দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ফজলুল হক ফরাজীকে একাধিকবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দী, পিজি হাসপাতাল, বেসরকারী ইবনেসিনা, এশিয়ান ও খুলনার গাজী মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতলে চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃশেষ হয়ে গেছে।
মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক উপজেলার উত্তর মিঠাখালী গ্রামের মৃত মো. শামসুল হক ফরাজীর একমাত্র ছেলে।
ফজলুল হক ফরাজীর মেয়ে শিরীন আক্তার জানান, ১৯৯৯ সালে প্রথম ব্রেইন স্ট্রোক করার পর থেকে বাবার সকল ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। অসুস্থ বাবার চিকিৎসা করাতে গিয়ে পৌর শহরের ৪টি ভিটি ও ২ একর জমি বিক্রি করতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রতিদিন ৩ হাজার টাকা চিকিৎসায় খরচ হয়। আমার একমাত্র ভাই সেও বেকার থাকায় আমাদের পক্ষে বাবার ব্যয় বহুল চিকিৎসা চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উপজেলা কমান্ডার মোঃ বাচ্চু মিয়া আকন জানান, সুন্দরবন হয়ে ভারতের আমলানী ক্যাম্পে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বীর সৈনিক ফজলুল হক সরাসরি পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ৯নং সেক্টরের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি মঠবাড়িয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদে প্রায় ১৫ বছর সহকারী কমান্ডারের (অর্থ) দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি দীর্ঘদিন উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক মন্ডলির দায়িত্বে ছিলেন। আমরা যতটুকু পেরেছি সংসদ থেকে সহযোগিতা করেছি। তিনি আরও জানান, ছয় সন্তানের জনক ফজলুল হক ফরাজীর ব্যয়বহুল চিকিৎসার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আর্থিক সহযোগিতার জন্য আবেদন জানাচ্ছি।
ফজলুল হক ফরাজী বর্তমানে খুুলনা গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন ডা. হালিম সরদারের অধীনে চিকিৎসাধীন থাকলেও বেসরকারী হাসপাতালের ব্যয় বহন করতে না পেরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার ডা. সিদ্দিকুর রহমান এর অধীনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।
