স্বরূপকাঠিতে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ৭ম শ্রেনীর ছাত্রীকে জোর করে তুলে এনে বিয়ে দেয়ার অভিযোগ
স্বরূপকাঠি প্রতিনিধি :
স্বরূপকাঠির জলাবাড়ী ইউপির সদস্য মোঃ নকিতুল্লার বিরুদ্ধে মারিয়া (১৩) নামের ৭ম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে এনে জোর করে বিয়ে দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই সদস্যের পালিত ক্যাডার মোঃ হাফিজুর রহমানের (২২) সাথে বিয়ে দিতে শনিবার রাতে আরামকাঠি গ্রামের সাইফুল ইসলামে বাড়ী থেকে ছাত্রীকে তুলে নকিতুল্লার বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে মেয়েটির আশ্রয়দাতা মামা সাইফুল ঘটনাটি পুলিশকে জানালে গতকাল রবিবার সকালে পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।
মেয়েটির আশ্রয়দাতা মামা সাইফুল ইসলাম জানান তার বোন ও ভগ্নিপতির বিচ্ছেদের কারনে ভাগ্নি মারিয়াকে নিজের কাছে রেখে পড়ালেখা করান। তিনি অভিযোগ করেন মেয়েটির বিদ্যালয় যাওয়ার পথে একই গ্রামের মোঃ আবু মিয়ার ছেলে মোঃ হাফিজুর রহমান প্রায়ই তাকে উত্যক্ত করত। কিন্তু হাফিজুর মেম্বরের সহযোগী বিধায় আমরা তাকে কিছু বলার সাহস পেতাম না। তারপর হটাৎ গত শনিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ইউপি সদস্য নকিতুল্লাহসহ হাফিজুর, আরিফ, মাসুদসহ ৮/১০জন বখাটে লোক তার বাড়ি (সাইফুলের অনুপস্থিতিতে) থেকে মারিয়াকে জোড় করে তুলে নিয়ে যায়। তারপর বিয়ে পড়ানোর জন্য স্থানীয় কাজির কাছে নিয়ে গেলে মেয়ের বয়স কম হওয়ায় কাজি বিয়ে পড়াতে রাজি হয়নি। এ নিয়ে এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তার ভাগ্নি মারিয়াকে রাতে নকিতুল্লাহ নিজের বাড়িতে নিয়ে রাখেন। রোববার সকালে সাইফুল বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পরে দুপুরে পুলিশ মারিয়াকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। জোড় করে মারিয়াকে তুলে আনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন ইউপি সদস্য নকিতুল্লাহ। তিনি বলেন হাফিজুর ও মারিয়ার মধ্যে প্রেমের কঠিন সম্পর্ক রয়েছে। তাই বিষয়টি নিজ বাড়িতে বসে সমাধানের চেষ্টা করেছেন।
স্বরূপকাঠি থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি একটি প্রেম গঠিত ব্যাপার। মেম্বরসহ উভয়পক্ষে থানায় ডাকা হয়েছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষ থেকে একটা সমাধানের চেষ্টা চলছে। অন্যাথায় মামলা হবে।
