ইন্দুরকানীতে টগড়া ও কলারণ ফেরীঘাটে দূর্ভোগ
ইন্দুরকানী সংবাদদাতা :
জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার টগড়া ও কলারণ ফেরীঘাটে জোয়ারের পানিতে চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে যাত্রীরা। দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তর টগড়া ফেরীঘাট থেকে বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন শত শত গাড়ি দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলাচল করে। এই ঘাটটি থেকে বরিশাল, খুলনা, যশোর, রাজশাহী, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগের একমাত্র পথ। এই ঘাট থেকে প্রতিদিন ছাত্র-ছাত্রীসহ কয়েক হাজার সাধারণ যাত্রী চলাচল করে। মৎস্য বন্দর পাথরঘাটা থেকে শত শত মাছের ট্রাক আশা যাওয়া করে। ঘাটের দূর্ভোগের কারণে অনেক ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনগুলো ফেরীতে উঠানামা করে এবং প্রায়ই দূর্ঘটনা ঘটে। দেখা যায়, কচা নদীতে জোয়ার আসলেই ফেরিঘাটটি তলিয়ে যায়, যার ফলে অনেক ঝুঁকি নিয়ে ঘাট অতিক্রম করতে হয়। ঘাট সংস্কারের অভাব, জোয়ারের শ্রোত ও নদী ভাঙনের প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকার কারনে এই দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিনে ঘাট এলাকায় গেলে বাসের ড্রাইভার গফফার জানায়, “অনেক রিক্স নিয়ে যাত্রীসহ বাসটি এ ঘাট থেকে উঠতে হয়, কোন রকম ত্রুটি হলেই বড় ধরনের দূর্ঘটনার শিকার হতে হয়। অনেক সময় জোয়ারের পানি বেশি থাকায় ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এছাড়া বাসের মধ্যেও পানি ঢুকে যায়।
পিকআপ ড্রাইভার জাহাঙ্গির হোসেন জানায়, “জোয়ারের সময় আমরা পিকআপ পারাপার করতে পারি না। পানি না কমা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। কারণ জোয়ারের পানিতে গাড়ি প্রায় ডুবে যায়।
মাদ্রাসা ছাত্র আঃ রহমান জানায়, “আমরা চরখালী থেকে টগড়া মাদ্রাসায় আসলে ফেরী ঘাটে পানি থাকায় অনেক সময় নৌকা অথবা রেলিং এর উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। এতে জামা-কাপড় ভিজে যায়। এখানে প্রায়ই দূর্ঘটনা হয় আর এটা একটি চলমান সমস্যা। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে স্কুল-মাদ্রাসার ছাত্রী ও পথযাত্রী মহিলারা।
এদিকে, উপজেলার কলারণ সন্নাসী ঘাটটি সুন্দরবন, মোড়েলগঞ্জ, কচুয়া, পাথরঘাটা, শরনখোলার একমাত্র যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু এ অঞ্চলের মানুষের। সিডর বির্ধ্বস্ত হওয়ার পর উপজেলার বালিপাড়া কলারন সন্নাসী ফেরীঘাটটি এখনও চালু হয় নি। কিন্তু ফেরীঘাট থেকে নিয়মিত শত শত ট্রলার আসা যাওয়া করে। বর্তমানে এই ঘাট থেকে পিরোজপুর জেলাসহ দুরপাল্লার গাড়ি চলাচল করে। পানগুছি নদীতে জোয়ার আসলেই ঘাটটির সম্পূর্ন তলিয়ে যায়। যার কারণে ট্রলারের যাত্রী ওঠা ও বাসের যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নুরুল হুদা জানান, এই ঘাটগুলো দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ন যোগাযোগের মাধ্যম। জোয়ারের পানি ওঠায় ঘাটগুলো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ঘাটগুলো দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।
