মুল পরিকল্পনাকারী যুবলীগ নেতা দ্বিপংকর রায়
নাজিরপুরে স্কুল শিক্ষক সমীরণ খুনের রহস্য উদঘাটন ॥ গ্রেফতার ৩
ফিরোজ মাহমুদ, নাজিরপুর প্রতিনিধি :
নাজিরপুরে আলোচিত স্কুল শিক্ষক সমীরণ মজুমদার (৩৫) খুনের রহস্য উদঘাটন হয়েছে। ঘটনার তিন মাস পর হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কেএম মজিবর রহমান। এ খুনের ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে রয়েছে খুনের মুল পরিকল্পনাকারী যুবলীগ নেতা দ্বিপংকর রায়। দি¦পংকর রায় উপজেলার পশ্চিম বানিয়ারী গ্রামের চিত্তরঞ্জন রায়ের ছেলে।
অন্য দুজন হলেন, উপজেলার পশ্চিম বানিয়ারী গ্রামের মজিবর শেখের ছেলে মন্টু শেখ (৩০), একই গ্রামের বজলুর রহমান শেখের ছেলে খোকন শেখ (২৮)। খুনের পরিকল্পনাকারী দ্বিপংকর রায় (৩০) খুনের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারেক্তি মুলক জবানবন্দী দিয়েছে।
বুধবার সকালে উপজেলার বানিয়ারী এলাকা থেকে পুলিশ দ্বিপংকর রায়কে গ্রেফতার করে। ওই দিন বিকেলে সে পিরোজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক প্রবীর কুমার দাসের কাছে খুনের কথা স্বীকার করে খুনের পরিকল্পনার বর্ননা দিয়েছে। দ্বিপংকর রায় যুবলীগের নাজিরপুর উপজেলা শাখার সদস্য বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কেএম মজিবর রহমান জানান, চলতি মাসের ১০ তারিখ খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে খোকন শেখকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সাথ জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ি ভিকটিম সমীরণের বাড়ীর পুকুর থেকে খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয় এবং দ্বিপংকরকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার বিকেলে দ্বিপংকর রায় পিরোজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক প্রবীর কুমার দাসের কাছে খুনের কথা স্বীকার করে খুনের পরিকল্পনার বর্ননা দিয়েছে।
নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, ভিকটিম সমীরণ মজুমদার উপজেলার ৯নং পশ্চিম বানিয়ারী সরকার প্রাথমিক বিদালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তার পিতা-মাতা, ভাই-বোন সকলেই ভারতে থাকেন। তাদের প্রায় ২০ একর সম্পত্তি রয়েছে যা সমীরণ ভোগদখল করতো। ঘটনার মাসখানেক আগে দ্বিপংকর মন্টু শেখের নিকট ১লাখ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে মন্টুকে সমীরণের বাড়ীর সামনে ২০শতক জমির ওপর ঘর করে সেখানে তুলে দেয়। সমীরণের পুরো সম্পত্তি আত্মসাতের জন্যই যুবলীগ নেতা দ্বিপংকর রায় সমীরণকে খুনের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ি সে গ্রেফতারকৃত খোকন শেখসহ আরো ৫জনকে নিয়ে বৈঠক করে। বৈঠকে সমীরণকে খুন করার জন্য তাদের সাথে ১লাখ ২০হাজার টাকা চুক্তি হয়। তখন তারা নিজেদের রক্ষা করতে ডাকাতির ঘটনা সাজিয়ে খুনের সিদ্ধান্ত নেয়। সে অনুযায়ি ঘটনার রাতে তারা সিঁদ কেটে সমীরণের ঘরে ঢুকে তাকে টেনে হিচড়ে ঘর থেকে বের করে চাপাতি দিয়ে এলাপাতাড়ী ভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। ওসি আরো বলেন, গ্রেফতারকৃত যুবলীগ নেতা দ্বিপংকর রায় খুনের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৩ মার্চ রাত ২টার দিতে অজ্ঞাতনামা দুস্কৃতিকারীরা সিঁদ কেটে স্কুল শিক্ষক সমীরণ মজুমদারের ঘরে ঢুকে তাকে টেনে হিচড়ে ঘরের বাহিরে নিয়ে উপর্যুপুরি কুপিয়ে জখম করে। এ সময় তার স্ত্রী স্বপ্না বাঁধা দিলে তাকেও কুপিয়ে জখম করে দুস্কৃতিকারীরা। তাদের বাঁচাও বাঁচাও চিৎকারে স্থানীয়রা আসতে আসতে দুস্কৃতিকারীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা চিকিৎসার জন্য জখমীদের খুলনা মেডিকেল নেয়ার পথে সমীরণ মারা যায়। এ ঘটনায় পরের দিন অজ্ঞাতনামা আসামী করে সমীরণের স্ত্রী নাজিরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই দিনই পুলিশ খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মন্টু শেখকে আটক করে।
