ভয়াবহ লোডশেডিং || স্বরূপকাঠীতে জীবনযাত্রা ওষ্ঠাগত
স্বরূপকাঠী প্রতিনিধি :
স্বরূপকাঠীতে গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপদাহ আর ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে ওষ্ঠাগত হয়ে পড়েছে মানুষের জীবন। একদিকে প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাত বার লোডশেডিং অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে তাপমাত্রা বেড়ে চলায় ক্রমেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে জনজীবন। জনজীবনে নেমে এসেছে অন্তহীন সমস্যা। অসুস্থ হয়ে পড়ছে বাসা-বাড়ীর শিশুসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাত বার লোডশেডিংয়ে বাড়তি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে হাসপাতালের রোগীরাও। ব্যাঘাত ঘটছে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রের যাবতীয় কাজকর্মে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে বিদ্যুতের মুখ দেখে কর্মক্ষেত্রে বের হওয়ার সাথে সাথে উদাও হয়ে যায় বিদ্যুৎ। পরে দিনে ক্ষনিক সময়ের জন্য একটু আধটু বিদ্যুৎ পেলেও সন্ধ্যার সাথে সাথেই শুরু হয় বিদ্যুতের লাগাতার ভেলকিবাজি। তখন অসহনীয় গরম থেকে মানুষেরা একটু অব্যাহতি পেতে মধ্যে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে। মাঝরাতে বিদ্যুতের একটু মুখ দেখে ঘুমিয়ে পড়ার সাথে সাথেই চলে যায় কাঙ্খিত সেই বিদ্যুৎ। অতপরঃ সারারাতেও আর আসেনা বিদ্যুৎ। গরমে এই মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কথা অনেকটা স্বীকার করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পূর্বপাড় অফিসের জুনিয়ার ইঞ্জিনিয়ার নরউত্তম জানান, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের পূর্বপাড়ের চারটি ইউনিয়নে মোট ১৪ হাজার গ্রাহক রয়েছে। তাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিদিন পাঁচ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ দরকার। কিন্তু সে অনুযায়ী তারা বিদ্যুৎ পাচ্ছেনা। তাদের মাত্র দেড় থেকে দুই মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ সরবারহ দেয়া হচ্ছে। গ্রীডের সমস্যার জন্য বিদ্যুতের এ বিপর্যয় ঘটেছে বলে দাবী করেন এ কর্মকর্তা।
এদিকে ভয়াবহ এ লোডশেডিং এর পাশাপাশি প্রচন্ড তাপদাহে হাসপাতলে বেড়ে চলছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা। স্বরূপকাঠী হাসপাতালের থানা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ তানবীর আহম্মেদ বলেন, লোডশেডিং এর পাশাপাশি প্রচন্ড এই গরমে হাসপাতলে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিদ্যুৎ অভাবে তাদের খুবই কষ্ট হচ্ছে।
হাসপাতাল থেকে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১১ জন ডায়রিয়ার রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া গত সাত দিনে ৫৪ জন, ৩০ দিনে ২২০ জন ডায়রিয়ার রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, ঘন ঘন লোড শেডিংয়ে হাসপাতালে রোগীদের খুবই কষ্ট হচ্ছে। অফিসিয়ালি কাজবাজও ব্যভঘাত ঘটছে।
পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মোঃ সাইফুল আহম্মেদ বলেন, জাতীয় গ্রীড থেকে যে পরিমান বিদ্যুৎ বরাদ্দ আসে তা খুবই অপ্রতুল। এ উপজেলায় বিদ্যুতের যে চাহিদা সে তুলনায় সরবরাহ হচ্ছেনা। তিনি বলেন, উপজেলায় প্রায় ৪০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। তাদের চাহিদানুযায়ি উপজেলার পশ্চিমপাড়ে ছয়টি ইউনিয়নে ৬ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ দরকার। সেখানে তিন মেঘাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবারহ হচ্ছেনা। এছাড়া পূর্বপাড়ের চারটি ইউনিয়নে সাড়ে চার মেঘাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। সেখানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র দেড় (১.৫০) মেঘাওয়াট। তাই চাহিদানুযায়ী অত্র উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবারহ দিতে না পারায় বিদ্যুতের এ লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানান এ কর্মকর্তা। তবে অচিরেই বিদ্যুতের এ দুর্ভোগ ঘুচে যাবে বলে আশ্বস্ত করে ডিজিএম সাইফুল আহম্মেদ আরো বলেন, তাদের দু’তিনটি বিদ্যুৎ প্লানেট সার্ভিসিং চলছে। তা হয়ে গেলে বিদ্যুতের এ ঘাটতি সহনীয় পর্যায় চলে আসবে। তাছাড়া তারা এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করেছেন বলে জানান।
