নাজিরপুরে বাল্যবিয়ে মুক্ত ঘোষণা অনুষ্ঠানে অভিযোগ করেও বন্ধ হয়নি বিয়ে
ফিরোজ মাহমুদ, নাজিরপুর :
নাজিরপুর উপজেলাকে বাল্য বিয়ে মুক্ত ঘোষণার অনুষ্ঠান চলাকালে লিখিত অভিযোগ করেও বন্ধ করা যায়নি বাল্যবিয়ে। ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়–য়া এক স্কুল শিক্ষার্থীকে এক কিশোরের সাথে বিয়ে দেয়ার যড়যন্ত্র চলছে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য লিখিত অভিযোগ করেন ওই কিশোর ছেলেটির বাবা। এ অভিযোগের পর ছেলে-মেয়েকে ম্যানেজ করে মেয়ের বাবা ভুয়া কাজীর মাধ্যমে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মেয়েকে ছেলের ঘরে তুলে দেন। গতকাল রবিবার সকালে ছেলের বাড়ীতে গিয়ে নববধূকে ওই বাড়ীতে দেখা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক নাজিরপুর উপজেলাকে বাল্য বিয়ে মুক্ত উপজেলা ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠান চলাকালে উপজেলার যুগিয়া গ্রামের সেকেন্দার আলী সেখ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করে জানান যে, তার ছেলে মুদি দোকান্দার রাজুর সাথে একই গ্রামের গাফফার শেখের নাবালিকা কন্যা মেহেনাজকে বিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে ১৯ এপ্রিল রাতে রাজুর ঘরে তুলে দেন। অভিযোগ পেয়ে ওই দিনই উপজেলা নির্বাহী অফিসার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগ খানা নাজিরপুর থানার ওসি বরাবরে প্রেরণ করেন। তবে ওসি এ ধরনের কোন অভিযোগ পাননি বলে জানান। এ ঘটনার ১০দিন পেরিয়ে গেলেও প্রাশসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ছেলের বাবা সেকেন্দার আলী অভিযোগ দেয়ার কারণে মেয়ের বাবা গাফ্ফার সেখ ক্ষিপ্ত হয়ে রাজু সেখকে (২০) ভুল বুঝিয়ে উপজেলার বানিয়ারী গ্রামের কথিত কাজী আব্দুস সালামের বাড়ীতে নিয়ে যায়। সেখানে তার ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়–য়া নাবালিকা কন্যা মেহেনাজের বয়স ১৮ এবং রাজুর বয়স ২৩ দেখিয়ে পেছনের তারিখে বিয়ের রেজিষ্ট্রি কাবিন করেন। মেহেনাজ ২০১৬ সালে উপজেলার পূর্ব যুগিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসি পাস করে বর্তমানে পাশ্ববর্তী পাকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যায়নরত আছে। তার জন্ম তারিখ ১০ জুলাই ২০০৩ বলে নিশ্চিত করেছেন পূর্ব যুগিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মমতাজ পারভীন। এছাড়া জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ি বর রাজু সেখের বয়স ২০ বছর।
ঘটনার বিষয়ে কথিত কাজী আব্দুস সালমের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের কাজী সাইফুল ইসলামের সাথে আমি কাজ করি। মেহেনাজের বাবা গাফ্ফার সেখ আমার আত্মীয়। মেহেনাজ ও রাজুর বিয়ের বিষয়টি আমি জানি তবে আমি বিয়ে পড়াইনি। তারা পিরোজপুর থেকে কাগজপত্র ঠিক করে আমাকে দেখিয়েছে।
নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি আমি আপনার মাধ্যমেই প্রথম জানলাম। এ ধরণের কোন অভিযোগ এখনও পাইনি।
নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রেজাউল করিম বলেন, দরখাস্তের বিষয়টি মনে পড়ছে না। তবে কাজীর অনিয়মের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
