প্রধান সূচি

স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠছে পানগুছি দনীর দু’পাড় ।। মোড়েলগঞ্জে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ : নিখোঁজ ৮

মোঃ কামরুজ্জামান, বাগেরহাট :

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের পানগুছি নদীতে যাত্রীবাহি ট্রলার ডুবির ঘটনায় সময় বাড়ার সাথে সাথে নিহতের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর সেই সাথে পানগুছি নদীর দু’পাড়ে স্বজন হারানো মানুষের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠছে সেখানকার পরিবেশ। কারো পিতা, কারো ভাই, বোন, মেয়ে ও ছেলে খর¯্রােতা পানগুছি নদীতে ভেষে গেছে। স্বজন হারানো মানুষ গুলো খুঁজে ফিরছে নিহত স্বজননের মৃত দেহটি। মৃত দেহ উদ্ধারের খবর পেলেই সেখানে ছুটে যাচ্ছে স্বজনেরা। অনেকেই আবার নিজ উদ্যোগে ট্রলার নিয়ে নদীতে খুজে ফিরছেন স্বজনের মৃতদেহ। জীবিত না হলেও মৃত দেহ ফিরে পেতে চায় তারা।

নদীর পাড়ে নিজ স্ত্রীরকে খুঁজতে থাকা পিরোজপুর জেলার বালিপাড়া গ্রামের খলিলুর রহমান বলেন, গত দুই দিন ধরে স্ত্রী নাসরিন বেগমের মৃতদেহটির জন্য অপেক্ষ করছি। এখনও পর্যন্ত তার কোন সন্ধান পায়নি।

স্ত্রী’র খোঁজে নদীর পাড়ে দাড়িয়ে থাকা পুলিশ কনেস্টবল জাহিদ হোসেন লিটন বলেন, ঘটনার দিন ডুবে যাওয়া ট্রলারে আমিসহ আমার ছেলে, মেয়ে ও স্ত্রী ছিল। ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার সময় আমি ও আমার ছেলে-মেয়ে নদীর পাড়ে সাতরিয়ে উঠতে পারলেও আমার স্ত্রী নাসিমা বেগম নদীতে ভেসে যায়। এখন পর্যন্ত তার লাশ আমি পায়নি।

মায়ের লাশ নিয়ে ফিরতে থাকা কালিকাবাড়ী গ্রামের তরিকুল ইসলাম ও চিংড়াখালী গ্রামের লোকমান সরদার জানান, লাশ উদ্ধারের পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ ১৫ হাজার টাকার চেক দেয়া হয়েছে।

এদিকে ট্রলার ডুবির ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ১৪ জনে। নৌবাহিনীর কমান্ডার শাহরিয়ার ও বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপ-পরিচালক সরদার মাসুদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উদ্ধার হওয়া ৯ জনের মধ্যে রয়েছেন, মোড়েলগেঞ্জর চিংড়াখালী গ্রামের তবিবুর রহমান তোতার স্ত্রী মুন্নি বেগম (৩৫), কালিাকাবাড়ি গ্রামের আব্দুস ছালাম শেখের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩৫), কাছিকাটা গ্রামের কাশেম শেখের ছেলে আব্দুল মজিদ শেখ (৭৫), কাছিকাটা গ্রামের নাসির শেখে পুত্র নাজমুল (৬), বুরুজবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল গফুর হাওলাদরের ছেলে আনছার হাওলাদার (৫০), রায়েন্দা গ্রামের সামসুল হুদার ছেরে আল সামস্ আবির (১৬), বাশবাড়িয়া গ্রামের আলম চাপরাশির স্ত্রী সালমা (৩০) ও তার দুই বছরের শিশুপুত্র সাজ্জাদ, কাছিকাটা গ্রামের নাসির শেখের পুত্র নাজমুল (৬)। এছাড়া গত বুধবার ও মঙ্গলবার উদ্ধারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন, মোড়েলগঞ্জের পুটিখালী গ্রামের হালিম হাওলাদার কন্যা রিমা বেগম (২৫), মোড়েলগঞ্জের কালিকাবাড়ি গ্রামের মহসিন হোসেনের স্ত্রী বিউটি বেগম (৩৮), গুয়াবাড়িয়া গ্রামের হাসেম হাওলাদারের স্ত্রী সিয়ার বানু (৫০), চিংড়াখালী গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৭৫) ও উত্তর ফুলহাতা গ্রামের মোয়াজ্জেম হাওলাদারের স্ত্রী নাদেরা বেগম (২০)।

নৌবাহিনীর কমান্ডার শাহরিয়ার জানান, ট্রলার ডুবির ৩য় দিনে নিখোজের তালিকা অনুযায়ী  ১৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি নিখোজদের উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

অপরদিকে, ট্রলার ডুবির ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে মোড়েলগঞ্জ উপজেলা সভাকক্ষে জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পানগুছি নদীতে খেয়াপারাপারে জন্য সরকারি ভাবে দুটি ট্রলার ও দুই পাড়ে দুটি যাত্রী ছাউনি নির্মান করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া প্রতি ট্রলারে ২৫ জন করে যাত্রী ও একটি বাসের যাত্রী একটি ট্রলারে বহন করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে মোড়েলগঞ্জের পানগুছি নদীতে প্রায় ৮০ জন যাত্রী নিয়ে খেয়া পারাপারের ইঞ্জিন চালিত ট্রলারটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ এখনও ৯ জন নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে নদীতে অভিযান চালাচ্ছে নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ড।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial