প্রধান সূচি

শুরু হচ্ছে পরিবারের তথ্যভান্ডর তৈরির কাজ

কন্ঠ রিপোর্ট :
নতুন করে শুরু হচ্ছে পরিবারের তথ্যভান্ডার তৈরির কাজ। তথ্যভান্ডার তৈরিতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ৩টি পর্যায়ে দেশব্যাপী সকল পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থার তথ্য সংগ্রহ করবে।
দেশব্যাপী প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ পরিবার হতে ৩টি পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলা, রংপুর বিভাগের ৮টি জেলা এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ, জামালপুর ও শেরপুর জেলাসহ মোট ১৭টি জেলায় তথ্যসংগ্রহ শুমারি আগামী ৪ থেকে ১৭ এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে খুলনা, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগ এবং তৃতীয় পর্যায়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং নেত্রকোণা জেলার তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
এদিকে প্রথম পর্যায়ে ১৭টি জেলায় তথ্য সংগ্রহ উপলক্ষে মাস্টার ট্রেনারদের তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মিলনায়তনে শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক আমীর হোসেনের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব বিকাশ কিশোর দাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যন ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এম, এ, মান্নান হাওলাদার ও পরিসংখ্যন ব্যুরোর উপ-মহাপরিচালক বাইতুল আমীন ভূঁইয়া।
এ বিষয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব বিকাশ কিশোর দাস জানান, পরিসংখ্যান আইন ২০১৩ এবং পরিসংখ্যান উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় কৌশলপত্র অনুমোদিত হওয়ার পর থেকে বিবিএস আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং জাতীয় উন্নয়নে তথ্যের চাহিদা পূরণের মাধ্যমে সংস্থাটি এর অপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের সকল জনগোষ্ঠির জন্য এ ডাটাবেইজ প্রস্তুত সম্পন্ন হলে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগী নির্বাচনে তা ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের দারিদ্র দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে তাদের উপর অর্পিত এ জাতীয় দায়িত্ব নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সাথে সম্পন্ন করার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশনা প্রদান করেন এবং সকল পরিবারের সদস্যদের নির্ভূল তথ্য দিয়ে সরকারি এ কাজে সহযোগিতা করার আহবান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক আমীর হোসেন বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত ডাটাবেইজটি সরকারের প্রায় ২৩টি মন্ত্রণালয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগী নির্বাচনে ব্যবহার করবে।
তিনি বলেন, ডাটাবেইজ এর সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের এনআইডি ব্যবহারের জন্য ইতোমধ্যেই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রকল্প এবং ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর দ্য পুওরেস্ট শীর্ষক প্রকল্পের সাথে ২০১৬ সালের ২০ এপ্রিল সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মাস্টার ট্রেইনারদের তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে আগামী ১৯ থেকে ২১ এপ্রিলে জেলা পর্যায়ে ৪২টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে উপজেলা সমন্বয়কারী ও জোনাল অফিসারগণের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ১ থেকে ৩ এপ্রিল দেশের ১৭টি জেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে ১ হাজার ৫৯৫টি কেন্দ্রে প্রায় ৫৩ হাজার ৭০০ জন গণনাকারী ও সুপারভাইজারগণের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৪ থেকে ২৩ এপ্রিল নির্ধারিত এলাকার প্রতিটি পরিবারের তথ্য সংগ্রহের কাজ পরিচালিত হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial