প্রধান সূচি

ভান্ডারিয়ায় স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

কন্ঠ রিপোর্ট :

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় ১০ম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে অভিযুক্ত শিক্ষক মৃনাল কান্তি সিকদার মিন্টুরকে। শিক্ষক কতৃক যৌন লালশার শিকার হয়ে এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ শনিবার দুপুরে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ শাহআলম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের এক সভায় ওই বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক মৃনাল কান্তিকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত  করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, উপজেলার ১নং ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর ভিটাবাড়িয়া এন এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণীর উক্ত ছাত্রী ওই বিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিষয়ের শিক্ষক দুই সন্তানের জনক মৃনাল কান্তি সিকদার মিন্টু (৫০) এর কাছে সকাল ৯ টায় ইংরেজী বিষয়ে প্রাইভেট পড়ত। হঠাৎ করে শিক্ষক তার সেল ফোন থেকে ওই ছাত্রীটিকে পরের দিন সকাল ৮ টায় পড়তে যেতে বললে পরের দিন গত ২৩ ফেব্রুয়ারী স্কুলে গেলে শিক্ষক মৃনাল কান্তি তাকে (ছাত্রী) স্কুলের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে গিয়ে ঝাপটে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে অন্যকারো উপস্থিতি টের পেয়ে লম্পট শিক্ষক ছাত্রীটিকে ছেড়ে দিলে সে তার বান্ধবীর কাছে সকল ঘটনা খুলে বলে। তখন বান্ধবী এ ঘটনার বিচার চেয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে লিখিতভাবে অবহিত করে। প্রধান শিক্ষক এ ঘটনার কোন প্রতিকার না করে উল্টো যৌন নির্যাতনের শিকার ছাত্রীটিকে ডেকে এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য শাষিয়ে দেয় এবং তার সমর্থীত কিছু প্রভাবশালী বখাটেকে দিয়ে মেয়ের পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দেয়। তারা মেয়ের মা ও মেয়েকে বাড়ি থেকে জোর করে স্কুলে নিয়ে এসে বিজ্ঞানাগারে বন্ধি করে রেখে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি মর্মে জোরপূর্বক একটি লিখিতও নেয়। এ ঘটনা স্থানীয়রা জানতে পেরে তারা ক্ষুব্দ হয়ে উঠে। তখন এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে তাদেরকে (মা ও মেয়েকে) ছেড়ে দেয়া হয় এবং অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে প্রধান শিক্ষক তড়িঘড়ি করে দুপুর দেড়টায় স্কুল ছুটি দিয়ে দেন।

এ ব্যাপারে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ শাহআলম সাংবাদিকদের বলেন, বিদ্যালয়ের এক ১০ম শ্রেণীর ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক মৃনাল কান্তি সিকদার মিন্টুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর থেকে লম্পট শিক্ষক মৃনাল কান্তি সিকদার বিভিন্ন সময়ে তার ক্যাডার বাহিনীর মাধ্যমে নির্যাতিতা ছাত্রী ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চলছে। এছাড়া টাকার বিনিময়ে স্থানীয় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছে।

 

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial