ভান্ডারিয়ায় শিক্ষকের বিরেুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি :
জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলায় ১০ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে স্কুলের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
যৌন হয়রানী ও শ্লীলতাহানীর শিকার ছাত্রী এর প্রতিকার চেয়ে বিদ্যালয়সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের লক্ষে আজ শনিবার একটি বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর ভিটাবাড়িয়া নুরজাহান মেমোরিয়াল (এনএম) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনীর উক্ত ছাত্রী বিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিষয়ক শিক্ষক মৃনাল কান্তি সিকদার মিন্টু’র কাছে স্কুল কক্ষে প্রত্যাহ সকাল ৯টা থেকে ইংরেজী বিষয়ে প্রাইভেট পড়ে আসছিল। শিক্ষক মৃনাল কান্তি ওই ছাত্রীকে মোবাইলের মাধ্যমে ঘটনার দিন সকাল ৮টায় (একঘন্টা পূর্বে) আসতে বলেন। শিক্ষকের কথানুযায়ী পরবর্তী দিন সকাল ৮টায় স্কুলে গেলে শিক্ষক ওই ছাত্রীকে স্কুলের দোতালায় নিয়ে ঝাপটে ধরে শরীরের বিভিন্ন স্থান স্পর্শ ও জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এসময় স্কুল কম্পাউন্ডে অন্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মেয়েটিকে ছেড়ে দিলে ছাত্রীটি কাঁদতে কাঁদতে সিড়িঁ দিয়ে নিচে নেমে আসে। এসময় তার (মেয়েটির) এক বান্ধবির সাথে দেখা হয়। কান্না দেখে ও বান্ধবির পিড়াপিড়িতে সকল ঘটনা খুলে বলে ছাত্রীটি। পরে এ ঘটনার বিচার চেয়ে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধান শিক্ষক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেয় ছাত্রীটি।
তবে প্রধান শিক্ষক ঘটনার কোন প্রতিকার না করে উল্টো ওই ছাত্রীকে এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য বলেছেন। শেষে নিরুপায় হয়ে ছাত্রীটি ঘটনার বিচার দাবীতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে বলে একটি বিশ্বস্থ্য সূত্র জানায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দ বলেন, কোন মেয়ে কিংবা তার পরিবার চায়না মেয়েটির জীবনে কালিমা লাগুক। অভিযোগ দেয়ার একদিন পর তা প্রত্যাহার এর পিছনে অনেক কারণ আছে। সবাই-ই সুস্থ ভাবে থাকতে চায়, এর চেয়ে বেশী কিছু বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃতুল কুমার বেপারী গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, এ বিষয়ে মেয়েটি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বরাবরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারী লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আমি অভিযোগটি রিসিভ করেছি।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ শাহ-আলম মোবাইলে জানান, আমি ঢাকায়, আমার স্ত্রীর কাছে মেয়েটির পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তিনি (স্ত্রী) পড়ে আমাকে শুনিয়েছেন। তাতে ঘটনা সত্য। প্রধান শিক্ষককে এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য বলেছি সত্য মিথ্যা যাচাইয়ের জন্য। আমি শুক্রবার ঢাকা থেকে ফিরবো এবং পর দিন শনিবার এ নিয়ে বৈঠকে বসবো। এ সময় তিনি বলেন, একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমনটি আশা করা যায় না। সত্য হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেব।
অভিযুক্ত শিক্ষক মৃনাল কান্তি বিশ্বাস এ প্রতিবেদককে বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি ওই মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতাম সত্য কিন্তু যে অভিযোগ আমার নামে করা হচ্ছে এর সাথে আমি যুক্ত নই।
ভান্ডারিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি মোঃ কামরুজ্জামান তালুকদার বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস জানান, শিক্ষক কর্র্র্তৃক ছাত্রী যৌন হয়রানীর বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে তিনি খোঁজ খবর নিচ্ছেন।
ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জল বলেন, এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটে থাকলে অবশ্যই তার বিচার হবে।
এদিকে, শারীরিক হয়রানীর শিকার মেয়েটির পরিবারের সাথে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেন নি।
