মঠবাড়িয়ায় সরিষা ফুলের হলদে মাঠ কৃষকদের সাফল্যের স্বপ্ন দেখায়
ক্ষুদ্র শষ্য সরিষা চাষ করে সাফল্যের স্বপ্ন দেখছে মঠবাড়িয়ার কৃষকরা। কম খরচে বেশী উৎপাদন এবং লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে সরিষা চাষে দিন দিন আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, গত বছর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে সাড়ে ৭ হাজার একর জমিতে বারি সরিষা-১৪ চাষ করে ২০টনের বেশী উৎপাদন হয়। এবছর প্রায় ৮ হাজার একর জমিতে বারি সরিষা-১৪ চাষ করা হয়েছে। প্রতি একরে সরিষা উৎপন্ন হয় ৬ শত কেজি। বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৫০/৬০ টাকা। সরিষা ভাঙ্গলে প্রতি একরে তৈল আসে (৬০০ কেজি সরিষা) ৪০/৪৫ কেজি। প্রতি কেজি সরিষার তৈল বাজারে ১৮০/২০০ টাকায় বিক্রি হয়।
ইরি-বোরো ধান হয়না এমন জমিতে আমন ও আউশের মধ্যবর্তী সময়ে সরিষা চাষ করে কৃষকরা বাড়তি আয় করতে পারে। বীজ বপনের ৭৫/৮৫ দিনে সরিষায় ফলন আসে। ক্ষুদ্র তৈল জাতীয় শষ্য সরিষা চাষ সহজ এবং বাজার মূল্য থাকায় মঠবাড়িয়ার কৃষকদের মধ্যে সরিষা আবাদ দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে।
দক্ষিণ মিরুখালী গ্রামের চাষী জাকির হোসেন জানান, গত বছর সাড়ে ৭ শতাংশ জমিতে সরিষা চাষ করে উৎপাদিত প্রায় ১০০ কেজি সরিষা ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছে। এ বছর ৩৩ শতাংশ জমিতে সরিষা চাষ করেছি।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, বারি সরিষা-১৪ চাষ করতে প্রতি একরে চাষ, বীজ, সার-ওষুধ ও সেচে কৃষকের সর্বোচ্চ ব্যায় হয় ১০ হাজার টাকা। আর উৎপাদন হয় ৬০০ কেজি, যার বাজার মূল্য ৫০টাকা দরে ৩০ হাজার টাকা। আমন ও আউশের মধ্যবর্তী সময়ে কম খরচে বাড়তি আয়ের জন্য কৃষকদের মধ্যে সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন জানান, সরিষা চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করার জন্য রারি সরিষা-১৪ এর উপজেলায় ১০টি প্রদর্শণী করা হয়েছে।
পিরোজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারন অফিসের উপ-পরিচালক আবু হেনা জাফর জানান, সরিষা জনপ্রিয় করতে কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগীতা দেয়া হবে।
