প্রধান সূচি

অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে

নাজিরপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সংখ্যালঘু’র জমি দখল

পিরোজপুরের নাজিরপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ ওঠেছে মফিজুর রহমান নামের এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। ওই নেতা বর্তমানে রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও এক সময় যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ঘনিষ্ট কর্মী ছিলেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দেউলবাড়ী ইউনিয়নের গাওখালী বাজারে। বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে অভিযুক্ত মফিজুর রহমানকে ওই জায়গায় বালু ভরাট করতে দেখা গেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মফিজুর রহমান উপজেলার উত্তর পাকুরিয়া গ্রামের আব্দুল কাদের শেখের ছেলে। সে গাওখালী বাজারের একজন মুদি ব্যবসায়ী। তার দোকানের জায়গাটি সরকারী খাস জমির ওপর। ওই জায়গা সে অবৈধভাবে দখল করে ব্যবসা করে আসছে। তার দোকানের পিছনে গাওখালী মৌজার এস এ খতিয়ান-৬২/১৮৭, দাগ-২০০৮/২০০৯/২৩৩৪ এর সম্পত্তির রেকর্ডীয় মালিক স্থানীয় সুখরঞ্জন হালদার। মফিজুর রহমান সংখ্যালঘুদের ওই সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলের পায়তারা শুরু করলে সুখরঞ্জন বাদী হয়ে পিরোজপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ৩৯৫/২০১৭ মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে এবং মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নালিশী ভূমিতে স্থিতি অবস্থা বজায় রাখতে নাজিরপুর থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেন। গত ১৩ জানুয়ারী উপজেলার বৈঠাকাটা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপ-পুলিশ পরিদর্শক অনুপ কুমার মন্ডল আদালতের নির্দেশনা লিখিতভাবে উভয় পক্ষকে জানিয়ে দেন। মফিজুর রহমান পুলিশের দেয়া ওই নোটিশ প্রাপ্তি স্বীকার করেও আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আধারে সংখ্যালঘু পরিবারটির অর্ধকোটি টাকা মূল্যের ওই সম্পত্তি দখল করে নেয়।

ভুক্তভোগী সুখরঞ্জন হালদার বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও যদি জামায়াত সর্মথিতরা হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করে তাহলে আমাদের কি হবে ?’ যে জায়গায় মফিজের দোকান ওই জায়গা খাস হলেও সে সম্পত্তির রেকর্ডীয় মালিক আমরা। ওই সম্পত্তি খাস থেকে অবমুক্ত করার জন্য আমরা সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে নি¤œ আদালত থেকে রায় পেয়েছি। মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। দোকানের পিছনের পুরো সম্পত্তির রেকর্ডীয় মালিক আমরা। ওই সম্পত্তি মফিজ দখলের পায়তারা করলে আমি বাদী হয়ে আদালতে মামলা করি। ওই মামলায় আদালতের দেয়া নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মফিজ আমার জায়গায় বালু ভরাট করে দখল করে নিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে মফিজুর রহমান বলেন, আরে ভাই এখানেতো আর আমি বিল্ডিং করছি না। পরিবার নিয়ে দোকানের পিছনের বসবাসের জন্য অল্প কিছু বালু দেয়া হয়েছে মাত্র।

উপজেলার বৈঠাকাটা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) অনুপ কুমার মন্ডল বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দখলের বিষয়টি আমার জানা নাই। তবে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নালিশী ভূমিতে স্থিতিবস্থা বজায় রাখতে উভয় পক্ষকে লিখিত নোটিশ দেয়া হয়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial