নাজিরপুরে স্কুল ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু
নাজিরপুরে স্বর্ণা আক্তার (১৪) নামে এক স্কুল ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার মালিখালী ইউনিয়নের উত্তর ঝনঝনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। স্বর্ণা আক্তার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বাঁশবাড়িয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী এবং কোটালীপাড়া উপজেলার হিজলবাড়ী গ্রামের লেবানন প্রবাসী শাহ আলমের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ছাত্রীর পিতা লেবানন থাকায় সে তার মায়ের সাথে উপজেলার উত্তর ঝনঝনিয়া গ্রামে নানা সাহেব আলীর বাড়ী থেকে বাঁশবাড়িয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতো। গত মঙ্গলবার বিকেলে স্বর্ণাকে চিকিৎসার জন্য ওই বাড়ি থেকে বের করা হলেও স্থানীয় কেহ বিষয়টি জানতে পারেনি। ওই দিন রাত ১০টার দিকে প্রতিবেশীরা সাহেব আলীর ঘরে কান্নার শব্দ শুনে সেখানে গিয়ে জানতে পারে স্বর্ণা স্টোক করে মারা গেছে। গতকাল বুধবার স্বর্ণাকে দাফন করার জন্য তার লাশ কোটালীপাড়া উপজেলার হিজলবাড়ী গ্রামে পিতার বাড়ীতে নেয়া হয়। এ সংবাদ পেয়ে নাজিরপুর থানা পুলিশ সেখান থেকে বুধবার বিকেলে স্বর্ণার লাশ ময়না তদন্তের জন্য থানায় নিয়ে আসে। বুধবার বিকেলে নাজিরপুর থানায় কথা হয় স্বর্ণার মা সেলিনা বেগমের সাথে তিনি সাংবাদিকদের জানান, তার মেয়ে স্বর্ণার মানসিক সমস্যা ছিল। সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
এ দিকে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে স্বর্ণার সাইফুল নামে এক ছেলের সাথে বিয়ে হয়েছে কিন্তু বিয়ের বিষয়টিও তার মা অস্বীকার করছে।
উপজেলার মালিখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল করিম জানান, বিষপান জনিত কারণে স্বর্ণার মৃত্যু হয়েছে বুধবার সকালে এমন সংবাদ পেয়ে খোঁজ নেয়ার জন্য সাহেব আলীর বাড়ীতে গিয়ে বাড়ীতে একমাত্র বার্ধক্যজনিত অসুস্থ সাহেব আলীকে পাওয়া যায়। সে জানায় তার নাতনী স্বর্ণা স্টোক করে মারা গেছে। তাকে দাফন করার জন্য কোটালীপাড়ায় তার পিতার বাড়ীতে নেয়া হয়েছে।
নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, সংবাদ পেয়ে মেয়েটির লাশ সেখান থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়না তদন্তের জন্য পিরোজপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মুত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে।
