চিতলমারীতে সংখ্যালঘু পরিবারের বসত ঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা
বাগেরহাটের চিতলমারীতে মঙ্গলবার গভীর রাতে ২টি সংখ্যালঘু পরিবারের বসতঘরে তালা লাগিয়ে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রতিবেশিদের সাথে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার আনুমানিক রাত ১টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের আরুলিয়া গ্রামের ঋষিকেশ মন্ডল ও তার কাকাতো ভাই সুনিল মন্ডলের বসতঘরে বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যায়। বিষয়টি বাড়ির লোকজন টের পেয়ে দরজা খুলে বাইরে বের হতে চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। এ সময় তাদের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে। এ সময় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে লোকজন নেভানোর চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। মুহূর্তে ওই দুটি বসত ঘর আগুনে ভষ্মীভূত হয়।
এ ঘটনায় নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনা স্থলে ইউএনও মো. আবুসাঈদ, থানা অফিসার ইনচার্জ অনুকুল সরকার, চিতলমারী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ নিজাম উদ্দিনসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ঋষিকেশ মন্ডল কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, আগুনে পুড়ে সবই শেষ হয়ে গেছে তাদের। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে তাদের ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে বাইরে থেকে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যায়। প্রতিবেশিদের সাথে জমি-জমা নিয়ে বিরোধের জেরে তাদের উচ্ছেদের জন্য পরিকল্পিতভাবে এ অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে ইউএনও মো. আবুসাঈদ জানান, তিনি ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটিকে প্রাথমিকভাবে ঘর তৈরির জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪ বান ঢেউটিন প্রদান করা হয়েছে। অগ্নিকান্ডের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে চিতলমারী থানার ওসি অনুকূল সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, দুটি পরিবারে বসতঘর আগুনে পুরোপুরি ভষ্মীভূত হয়েছে। আগ্নিকান্ডের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
চিতলমারী সদর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ নিজাম উদ্দিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দু’টিকে তিনি ১০ হাজার টাকার অনুদান দিয়েছেন। প্রতিবেশিদের সাথে ওই সংখ্যালঘু পরিবার দু’টির জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে আনেকবার সালিশ দরবার করা হলেও সমাধান করা যাইনি। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লে¬খ্য, ৩ নভেম্বর একই গ্রামের হাসেন মৃধা ও তার দলবলের লোকজন পুরোহিত মন্মথ রায়কে বাড়ির সামনের রাস্তা থেকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায়। এর পর তাকে একটি রুমে আটকিয়ে ৭ শতক জমি লিখে দিতে বলা হলে এতে রাজি না হওয়ায় জোরপূর্বক একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিতে চেষ্ঠা করে। ওই স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে রাজি না হওয়ায় মন্মথ রায়কে বেদম প্রহর করে রক্তাক্ত জখমসহ তাকে গলায় রঁশি দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও কোন আসামি আটক না হওয়ায় এলাকায় ৬টি পুরোহিতসহ সংখ্যালঘু পরিবারগুলির মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
