প্রধান সূচি

কাউখালীতে সরকারি বিদ্যালয়ে চরম শিক্ষক সংকট : পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার দুটি ঐতিহ্যবাহী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান শিক্ষক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এতে পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং শত শত শিক্ষার্থী মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।
জানা গেছে, কাউখালী সরকারি কেজি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৭টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৫ জন শিক্ষক। এরমধ্যে একজন শিক্ষক বি.এড প্রশিক্ষণে থাকায় প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন মাত্র ৪ জন শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক এর পদ শুন্য রয়েছে।
অন্যদিকে, কাউখালী এস.বি. সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ৪৬০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৭ জন। শুন্য পদের সংখ্যা ১০জন। দীর্ঘদিন ধরে দুটি বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ইংরেজি, গণিত, ব্যবসায় শিক্ষা ও বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ অবস্থায় কেজি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের একমাত্র গণিত শিক্ষক মো. আমিনুর রহমানকে গত ১৭ জুন ঢাকার নারিন্দা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলি করা হলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে আগে থেকেই শিক্ষক সংকট ছিল। এখন একমাত্র গণিত শিক্ষক বদলি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, দ্রæত শূন্য পদে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।
কাউখালী সরকারি কেজি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিজন হালদার বলেন, দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকটের কারণে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের কাক্সিক্ষত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সীমিত জনবল দিয়ে এত শিক্ষার্থী সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। গণিত শিক্ষকের বদলি বিদ্যালয়কে আরও সংকটে ফেলেছে।
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকারি বিদ্যালয় দুটির শিক্ষক সংকট অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষক পদায়নের জন্য লিখিত সুপারিশ পাঠানো হচ্ছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, বরিশাল অঞ্চলের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কাউখালীর দুটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট সম্পর্কে আমরা অবগত। শূন্য পদের তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষক পদায়ন ও প্রয়োজনীয় বদলির মাধ্যমে দ্রæত সংকট সমাধারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial