প্রধান সূচি

পিরোজপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগ : বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

পিরোজপুর পৌর শহরের করিমুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ শেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে পাশ্ববর্তী অপর একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে গতকাল সোমবার দুপুরে বিক্ষোভ করেছে করিমুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, পিরোজপুর টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নির্মল চন্দ্র ভদ্রের কাছে প্রাইভেট পড়তে যাওয়া করিমুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণির এক ছাত্রী গত ২২ মে কোচিং শেষে বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানী ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ করে। এ ঘটনা শোনার পরে স্কুলছাত্রীর পরিবারের কিছু সদস্য ঐদিন দুপুরের পর শিক্ষক নির্মল চন্দ্র ভদ্রকে শহরে মধ্যে বসে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় ছাত্রীর পরিবারের লোকজন উক্ত শিক্ষককে শারীরিক লাঞ্চিত করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসে এবং সেখানে স্কুল ছাত্রী ও তার অভিভাবকদের ডেকে এনে শিক্ষককে লাঞ্চিত করার বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়া হয়।
তবে সেখানে ছাত্রীকে যৌন হয়রানী করার বিষয়টি উপেক্ষিত থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, যৌন হয়রানীর ঘটনার বিষয়ে ছাত্রীর বাবা দিলীপ কুমার শীল টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসার নামে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
ছাত্রীর বাবা দিলীপ কুমার শীল বলেন, আমি একজন অভিভাবক হিসেবে ন্যায়বিচার চাই। আমার মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে।
এদিকে, স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানী ও শ্লীলতাহানি প্রতিবাদে এবং দোষী শিক্ষককে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবীতে সোমবার দুপুরে বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
এসময় বক্তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ স্থান হওয়া উচিত। অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে করিমুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ২২ মে দুপুরে টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নির্মল চন্দ্র ভদ্রের ভাড়া নেওয়া একটি বাসায় কোচিং সেন্টারে উক্ত স্কুল ছাত্রীকে যৌন হয়রানী ও শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে। তবে বিষয়টি তাৎক্ষনিকভাবে ছাত্রীটির পরিবারের লোকজন আমাকে জানায় নি। ঘটনার পর বিষয়টি একপর্যায়ে থানা-পুলিশ পর্যন্ত গেলেও তাও কেউ আমাকে জানায়নি। পরে আমি বিষয়টি জেনে স্কুলছাত্রী ও তার অভিভাবকদের ডেকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হই এবং বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জানাই। তারা এ বিষয়ে তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচার করার আশ্বাস দিয়েছেন। সোমবার দুপুরে হঠাৎ করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দোষী শিক্ষকের গ্রেফতার ও শাস্তি দাবী করে বিক্ষোভ শুরু করলে তাদের আশ্বস্ত করে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে উক্ত শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। এছাড়া তাকে বিদ্যালয়ের সকল দায়িত্ব ও পাঠদান থেকে বিরত রাখাসহ বিদ্যালয় থেকে প্রদানকৃত তার সকল সুযোগ সুবিধা স্থগিত রাখা হয়েছে।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক নির্মল চন্দ্র ভদ্রের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে কল দিলে তার স্ত্রী পরিচয় দিয়ে এক মহিলা কলটি রিসিভ করেন। পরে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কল কেটে দেন।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial