পিরোজপুরে ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর বৈদ্যুতিক লাইট পোষ্টের তার চুরি : রাতে চলাচল ঝুঁকিতে
পিরোজপুর-বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের পিরোজপুরের কঁচা নদীর উপর নির্মিত ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু (বেকুটিয়া সেতু) এর লাইট পোষ্টে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রায় ৪০০ মিটার মূল্যবান বৈদ্যুতিক তার চুরি করে নিয়েছে চোরের দল। ফলে সেতুর কাউখালী উপজেলা প্রান্তের প্রায় এক কিলোমিটার অংশে লাইট পোষ্টে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কবে নাগাদ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে তাও অনিশ্চিত। এতে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে সেতুটির অর্ধেকের বেশি অংশ।
পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতের কোন এক সময় সেতুটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের বক্সের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মাটির নিচে থাকা বিদ্যুতের তারগুলো চুরি করা হয়। এর ফলে বরিশাল-খুলনা রুটের এ সেতুটির অংর্ধেক অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে, বন্ধ হওয়া লাইটপোষ্টগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা না গেলে সেতুটিতে রাতের বেলা ছিনতাই ও ডাকাতির আশংকা দেখা দিয়েছে সেতু দিয়ে চলাচলকারীদের মাঝে।
পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ জানান, সেতুটির চীনের নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান সেতুটির লাইট পোষ্টে বিদ্যুৎ সরবরাহের লাইনটি মাটির নিচ দিয়ে স্থাপন করেছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে লাইনটি সচল করা সম্ভব নয়। এছাড়া নতুন করে বিদ্যুৎ লাইন নির্মান করা অনেক ব্যয়বহুল, ফলে সহসাই লাইট পোষ্টে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়।
কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর কাউখালী অংশের লাইট পোষ্টের তার চুরির বিষয়ে থানায় একটি মামলা হয়েছে। চুরির ঘটনার পরে লাইট পোস্ট বন্ধ হওয়া অংশে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চীন সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় পিরোজপুর-বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহা সড়কের পিরোজপুরের কঁচা নদীর উপর নির্মিত হয় ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু। এটি ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করা হয় এবং পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
