প্রধান সূচি

স্বরূপকাঠীতে চুরির অভিযোগে যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলায় মো. পারভেজ (৩২) নামে এক যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই যুবকের স্ত্রী এবং বৃদ্ধা মায়ের সামনে থেকে সকালে ঘুম থেকে উঠিয়ে টেনে হিচড়ে ঘর থেকে বের করে নিয়ে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মো. কামরুল হাসান খোকন নামে এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৬ এপ্রিল সকালে উপজেলার উত্তর পশ্চিম সোহাগদল গ্রামে। তবে বিষয়টি বুধবার জানাজনি হয়।
নির্যাতনকারী কামরুল হাসান খোকন উপজেলার উত্তর পশ্চিম সোহাগদল গ্রামের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। তিনি ওই ওয়ার্ডের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।
এলাকার একটি চুরির ঘটনায় সন্দেহে যুবক পারভেজকে গাছের সাথে বেঁধে প্রকাশ্য বেদম মারধর করেন ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতা খোকন। তিনি পারভেজের মাথা গাছের সাথে থেতলে দেয় এবং হাতের নখ প্লাস দিয়ে টেনে নির্যাতন করে। এসময় পারভেজের বৃদ্ধা মা হনুফা বেগম, স্ত্রী পপি বেগম এবং তার ছোট শিশু সন্তান ইউপি সদস্য খোকনের হাতে-পায়ে ধরে আকুতি মিনতি করলেও দয়া হয়নি তার। ওই যুবককে নির্যাতন ও মারধর করার পর তাকে নেছারাবাদ থানায় হস্তান্তর করেন যুবলীগ নেতা কামরুল হাসান খোকন।
পুলিশ পারভেজকে পুরানো একটি ডাকাতি মামলায় আটক দেখিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর বৃদ্ধা মা হনুফা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, আমি ১০দিন পর্যন্ত আদালতের বারান্দায় ঘুরছি। টাকার অভাবে উকিল ধরতে পারছি না। ছেলের জামিন পর্যন্ত করাতে পারিনি। এখন পর্যন্ত ছেলের মুখটিও দেখতেও পারিনি।
তিনি আরও বলেন, গত ২৬ এপ্রিল সকালে মেম্বর খোকন মিয়া একটি চুরির অভিযোগ এনে আমাদের ঘরে এসে ছেলে পারভেজকে ঘুম থেকে উঠিয়ে বাইরে নিয়ে যায়। সে আমার ছেলেকে গাছের সাথে বেঁধে মাথা গাছের সাথে কয়েকটি ধাক্কা দেয়। লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে। একপর্যায়ে একটি প্লাস দিয়ে ছেলের হাতের আঙ্গুলের নখ টেনে ধরে চুরির কথা স্বীকার করায়। এসময় ছেলেকে বাঁচাতে আমি, আমার পুত্রবধূ পপি এবং ছোট নাতি মেম্বরের হাতে পায়ে ধরলেও তার মায়া হয়নি। এভাবে নির্মম নির্যাতন করে মেরে আমার ছেলেকে থানায় দিয়ে আসে খোকন মেম্বার। পরে পুলিশ একটি অতি পুরানো ডাকাতি মামলায় ছেলেকে আসামী করে জেলে পাঠিয়ে দেয়। তিনি বলেন, আমাদের সাথে মেম্বরের জমি নিয়া একটু বিরোধ রয়েছে।
নির্যাযিত পারভেজের স্ত্রী পপি বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী কোন চুরি ডাকাতি করেনি। এলাকার খোকন মেম্বর আমাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করতে আমার স্বামীকে মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে নির্মম নির্যাতন করে থানায় দিয়েছে। আমরা মেম্বরের হাত থেকে বাঁচতে চাই।
মারধরের বিষয়ে স্বীকার করে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা ও ইউপি সদস্য কামরুল হাসান খোকন বলেন, পারভেজ একটা চোর। তাই তাকে ধরে একটু মারধর করেছি। তার স্বীকারোক্তি নেওয়ার জন্য প্লাস দিয়ে একটু ভয় দেখিয়েছি। পরে পুলিশের হাতে তাকে তুলে দিয়েছি।
এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে একজনকে ধরে নির্মমভাবে নির্যাতন করা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একজন ইউপি সদস্য, একটু মারলে কি হয়। তবে তার সাথে কারো জমি নিয়ে বিরোধ নেই বলে দাবি ইউপি সদস্য খোকনের।
নেছারাবাদ থানার অফিসার ওসি মো. বনি আমীন জানান, ওই যুবক চুরির কথা আমাদের কাছে বলেছে। মেম্বর তাকে আমাদের কাছে নিয়ে আসছিল। পরে একটি মামলায় তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজোতে পাঠানো হয়েছে। তবে ইউপি সদস্য খোকনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ দিলে তদন্ত করে দেখা হবে।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial