ঘটনাস্থল স্বরূপকাঠী
পাওনা ১৭ লাখ টাকা : জোরপূর্বক বায়না করে নিলেন ২ কোটি টাকার সম্পদ
পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলায় ১৭ লাখ টাকা পাওনার বিপরীতে স্বাধীন হালদার নামে জনৈক হিন্দু ব্যক্তির ৪ তলা বিল্ডিংসহ ২৪ শতক জমি বায়না করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঐ বিল্ডিং ও জমির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।
উপজেলার মো. কাজী শিমুল এবং মো. মিজান দুই ব্যক্তি নিজেদের নামে ওই সম্পদ রেজিষ্ট্রি বিহীন জোরপূর্বক বায়না করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ। শিমুল কাজী আওয়ামী সমর্থক এবং মো. মিজান বিএনপি সমর্থক।
ভুক্তভোগী স্বাধীন হালদারের অভিযোগ, তাকে জোর করে ধরে এনে মামলা এবং মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে শিমুল কাজী এবং মিজান তার বাড়ী ও জমি ষ্ট্যাম্প পেপারে নিজেদের নামে একটা বায়না দলিল লিখে নিয়েছেন। তবে সে বায়না পত্রের কোন রেজিষ্ট্রি হয়নি। স্বাধীনের অভিযোগ বিএনপি নেতা আনিসুজ্জামানের ব্যবসায়িক অফিসে বসে গত সোমবার দুপুরের দিকে জোর জবরদস্তি করে এ বায়না পত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী স্বাধীন হালদার ভয়ে গা’ঢাকা দিয়ে আছেন। এ খবর শুনে তার পিতা-মাতা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। স্বাধীন হালদার কুড়িয়ানা গ্রামের রনজিৎ হালদারের ছেলে।
অভিযোগে স্বাধীন হালদার বলেন, উপজেলার কুড়িয়ানা বাজারে মাতৃ সমবায় সমিতি নামে তার একটি সমিতি রয়েছে। তার সমিতিতে মাহামুদকাঠি গ্রামের মো. মিজান এবং রাহুতকাঠি গ্রামের শিমুল কাজী ১৫ লাখ টাকা পেত। এছাড়া একই গ্রামের কয়েকজন মিলে দুই লাখ টাকার মত আমানত পেত। সব মিলিয়ে তারা আমার কাছে ১৭ লাখ টাকা পাবে। ঘটনার দিন তারা আমাকে ধরে এনে বিএনপি নেতা আনিসুজ্জামানের ব্যবসায়িক অফিসে বসে মামলা ও মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে আমার ৪তলা বিল্ডিংসহ ২৪ শতক জমি বায়না করে নিয়েছে। ষ্ট্যাম্প পেপারে জোরপূর্বক আমার স্বাক্ষর নিয়ে মিজান এবং শিমুল কাজী তাদের দুইজনের নামে ওই বায়না দলিল করেছে। এ ঘটনার পর থেকে আমার পিতা-মাতা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আমার আত্মহত্যার পথ ছাড়া কোন উপায় নেই।
অভিযোগের বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে কাজী শিমুল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না। পরে কথা বলব।
এ বিষয়ে স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক কাজী আনিসুজ্জামান বলেন, স্বাধীন হালদারের কাছে শতাধিক লোক দেড় তেথক দুই কোটি টাকা পাবে। তারা স্বাধীনকে আমার কাছে নিয়ে আসছিল। ওই সময়ে আমি স্বাধীনকে চলে যেতে বললে তাকে পাওনাদার সবাই মিলে হয়তো মেরে ফেলতো। রাজনীতির জীবনে আমি কোন খারাপ কাজ করিনি।
স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মো. কাজী কামাল বলেন, পৌর বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ কোন অপরাধ করতে পারে না। কেউ যদি করে থাকে তাহলে ব্যক্তির দায় দল নিবে না।
