ভাগ্য ফিরবে মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীদের
পিরোজপুরে পাড়েরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের কার্যক্রম উদ্বোধন
পিরোজপুরের পাড়েরহাটে বিএফডিসির মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মৎস্য অবতরণ ও বিপনন কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়েছে।
সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে মাছ বেচা-কেনার মাধ্যমে অবতরণ ও বিপনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) সুরাইয়া আখতার জাহান।
পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খানের সভাপতিত্বে মৎস্য বন্দরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বি এফ ডিসি’র পরিচালক (উপ সচিব) অদ্বৈত চন্দ্র দাস, যুগ্ম সচিব শাহ মোমেন, স্থানীয় সেনা ক্যাম্পের ইনচার্জ লে. কর্ণেল আরিফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হোসেন খান, পাড়েরহাট মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন মল্লিক, জেলা বিএনপির আহবায়ক আলমগীর হোসেন, সাংবাদিক মো. মুনিরুজ্জামান নাসিম ও মাছ ব্যবসায়ী মোস্তফা আকন প্রমুখ।
পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিথলিয়ায় ২ একর ৩৬ শতাংশ জমির ওপর ১১ কোটি ৯১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বি এফ ডিসি) এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি নির্মান করেন। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মৎস্য আহরণ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের জন্য মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মান কাজ ২০২১ সালে শেষ হয়। এটি চালু হওয়ায় সরকারের অন্তত কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হবে বলে মনে করছেন এই খাতের সংশ্লিষ্টরা।
এখানে নির্মান করা হয়েছে উন্নতমানের ১০ হাজার বর্গফুটের অকশন সেড, ৫০ জন আড়ৎদারের ব্যবহার উপযোগী দ্বিতল আড়ৎঘর, আইস পান্ট, আবাসিক ভবন, অফিস ভবন, পন্টুন ও গ্যাংওয়ে, মাছ প্যাকেজিং করার জন্য প্যাকেজিং সেট, জেনারেটর কক্ষ, ইন্সপেকশন রুম, স্যানিটেশন ও পয়:নিস্কাশনের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা।

২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর বিগত সরকারের মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন। কিন্তু শুরুতেই বিএফডিসি সুফলভোগীদের মধ্যে মতদ্বৈধতা ও অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা থাকায় এতদিন এর কার্যক্রম শুরু করা যায়নি।
পাড়েরহাটের এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি দেশের অন্যান্য স্থানে কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। দক্ষিনে বঙ্গোপসাগর, সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলের নদ-নদীর মোহনায় আহরিত মাছ এই পাড়েরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কেনাবেচা হয়। রাজধানী ঢাকাসহ সারদেশে সহজ যোগাযোগের কারণে এই অঞ্চলের জেলেসহ মৎস্য ব্যবসায়ীরা এই অবতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত সুযোগ সুবিধা পাবেন।
পাড়েরহাট মৎসজীবী সমাজ কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা আকন বলেন, অবতরণ কেন্দ্রটি চালু হওয়ায় মৎস্য ট্রলার মালিক, জেলে, আড়তদার, পাইকারসহ সবাই এক জায়গায় মাছ ক্রয়-বিক্রয়ের সুযোগ পাবে।
পাড়েরহাট মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন মল্লিক বলেন, পাড়েরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে সরকারের সময়োপযোগী ও ফলপ্রসূ পদক্ষেপের কারণে ইলিশের পুরোনো ঐতিহ্য ফিরে আসবে।
বিএফডিসি’র পরিচালক (উপ সচিব) অদ্বৈত চন্দ্র দাস বলেন, পাড়েরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দের কার্যক্রম উদ্বোধনের ফলে জেলেদের ভোগান্তি লাঘব হবে। মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে মৎস্য অবতরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন হবে। জীবনমান ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে এই এলাকার মৎস্যজীবী ও সংশ্লিষ্ট মানুষজনের ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারী কর্মকর্তা, জেলে, আড়ৎদার, পাইকার, মৎস্য ট্রলারের মালিকসহ স্থানীয়রা ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
