নাজিরপুরে পানিতে নিমজ্জিত পোষ্ট অফিস সড়ক : দুর্ভোগে উপজেলাবাসী
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার পোষ্ট অফিস সড়কটি বছর ধরে পানিতে নিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে। ফলে পোষ্ট অফিসে সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। সড়কের পাশে কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি জমে যায় সড়কে। পানি জমে থাকার কারণে পোষ্ট অফিসে এসে কাঙ্খিত সেবা নিতে পারছেন না উপজেলার মানুষ।
চিঠিপত্র ছাড়াও বিদেশী রেমিট্যান্স দেশের আপনজনের কাছে পাঠাতে একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম এই পোষ্ট অফিস। আধুনিকতার ছোয়ায় বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে ই-মেইল, অনলাইন আর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সুবাদে পোষ্ট অফিসের গুরুত্ব কিছুটা কমলেও ব্যাংকিং খাতের ভোগান্তির কারণে পোষ্ট অফিসে জীবনবীমা, সঞ্চয়পত্রের টাকা জামানত রাখা কিংবা জরুরি কাগজপত্র পাঠাতে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে পোষ্ট অফিসের গুরুত্ব রয়েছে। যার কারণে গ্রাহকেরা প্রতিদিন উপজেলার পোষ্ট অফিসে আসেন তাদের কাঙ্খিত সেবা নিতে। অথচ এই পোষ্ট অফিসের সড়কটি পানিতে নিমজ্জিত থাকায় বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে পোষ্ট অফিসের রাস্তাটি পানিতে নিমজ্জিত এবং সড়ক জুড়ে নোংরা পািনতে সয়লাব। এই নোংরা পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করেই অফিসিয়াল কাজকর্ম করছে এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আবার অনেকে এই রাস্তা পার হচ্ছে ভ্যান গাড়িতে করে।
পোষ্ট অফিসে সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের সড়ক পার করে দিচ্ছেন ভ্যানচালক জাকির হোসেন। তিনি জানান, পোষ্ট অফিস সড়ক পানিতে তলিয়ে থাকায় আমার ভালো হয়েছে। আমরা এক কিলোমিটার গাড়ি চালালে একজন যাত্রী আমাদের ৫ টাকা ভাড়া দেয়, কিন্তু এই সড়কের ৫০ ফিট রাস্তা পার করে দিলে প্রত্যেক যাত্রী আমাকে ১০ টাকা দেয়। তাই নিয়মিত এখানে গাড়ি চালাই।
এ বিষয়ে নাজিরপুর সদরের বাসিন্দা হোসেন আলী সেখ জানান, আমি পোষ্ট অফিসের একজন নিয়মিত গ্রাহক। পোষ্ট অফিসের রাস্তাটি পানিতে নিমজ্জিত থাকার কারণে আমাদের কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। এখানকার পানি পায়ে লাগলে অনেক চুলকায়। উপজেলার পোষ্ট অফিস সড়কের এমন বেহাল দশায় আমি মর্মাহত।
এ বিষয়ে উপজেলা পোষ্ট মাস্টার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমি এখানে দুই মাস হয়েছে দায়িত্ব পালন করছি। অফিসে যোগদানের পর থেকেই দেখছি পোষ্ট অফিসে ঢোকার রাস্তাটি পানিতে নিমজ্জিত। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আমি এই দুই মাসে তিনবার গিয়েছি, দ্রæত সময়ের মধ্যে তিনি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করবেন বলে তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো ফলাফল পাইনি।
এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অরুপ রতন সিংহ জানান, অবশ্যই পোষ্ট অফিস সড়কের জলাবদ্ধতার নিরাসন করা হবে। আমি উপজেলা প্রকৌশলীকে সাথে করে পোষ্ট অফিসের সড়কটি পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। এখানে ঠিকাদার নিয়োগ করে এই অচল অবস্থা নিরসন করার জন্য কোন প্রকল্প পাস করা যায় কিনা তার জন্য। কিন্তু বর্তমানে ঠিকাদারদের অচল অবস্থা এবং এলাকাবাসীর অসহযোগিতার কারণে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। এটা আসলেই একটা জটিল সমস্যা। আমি স্থানীয়দের নিয়ে আবারও বসবো। আশা করছি তাদের সহযোগিতায় একটা ভালো সমাধান হবে।
তিনি আরও জানান,তার পূর্বের নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ এই সমস্যা নিরসনের চেষ্টা করে গেছেন। এখানকার স্থানীয়দের একপক্ষ উপজেলা প্রশাসনকে সহোযোগিতা করলেও অপর পক্ষ সহযোগিতা করেছেন না বিধায় জলাবদ্ধতার সমাধান হয়নি।
