বৃদ্ধ দম্পত্তিকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে জমি দখলের অভিযোগ সাবেক ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে
সুখ রঞ্জন হালদার (৭০), স্ত্রী সবিতা মিস্ত্রী (৫০) দুইটি কন্যা সন্তানের জনক জননী। শরীরের নানা রোগ শোকে বেশি সময় অসুস্থ থাকতে হয় সবিতার স্বামীকে। মেয়ে জামাইদের সহায়তায় টেনেটুনে চলে তাদের পরিবার। অভাব যেন তাদের নিত্য দিনের সঙ্গি। গত ২১ সেপ্টেম্বর সকালে ওই অসহায় দম্পত্তিকে এক কাপড়ে নিজ বসতঘর থেকে জোরপূর্বক বের করে দিয়ে ভিটেমাটি দখল নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে এলাকার প্রভাবশালী সাবেক ইউপি সদস্য মো. সোবাহান মিয়ার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের বিন্না গ্রামের ৬নং ওয়ার্ডে।
তবে সোবাহান মিয়ার ভাষ্যন খরিদা সূত্রে ওই জমির মালিক তিনি। আদালতে মামলা করে তিনি জয় পেয়েছেন। আদালত এসে তার প্রাপ্য জমি বুঝিয়ে দিয়েছেন।
এদিকে, সবিতা মিস্ত্রীর অভিযোগ- টাকার অভাবে মামলা লড়তে বিলম্ব হয়েছে, তাই মামলার রায় সোবাহান মিয়ার পক্ষে যাওয়ার সাথে সাথে ন্যায় বিচারের আশায় আমরা আপিল করেছি। সোবাহান মিয়া আপিল অমান্য করে গায়ের জোরে আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু কেড়ে নিয়েছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে অন্যের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছি।
অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক ইউপি সদস্য সোবাহান মিয়া বলেন, আমি ১৯৯৭ সালে সবিতার শশুর কেশব হালদারের কাছ থেকে ওই জমি কিনেছি। আদালতে মামলা করে আমি জমি পেয়েছি। তবে, সবিতা মিস্ত্রী বলেছেন, আমার শশুর ১৯৯৩ সালে বার্ধক্যজনিত রোগে বাড়ীতে বসে মারা গেছেন। ১৯৯৭ সালে সে কিভাবে দলিল দিয়েছে। সোবাহান মিয়া একটি জাল দলিল করে অন্যায়ভাবে তিনপুরুষ ধরে বসবাসরত আমাদের ভিটামাটি জোরপূর্বক দখল নিয়েছে।
সোবাহান মিয়া বলেন, সবিতার শ্বশুর কেশব হালদার আমাকে ১৯৯৭ সালে দলিল দিয়ে ১৯৯৮ সালে মারা গেছেন। কেশব হালদারের মৃত্যুর কোন সঠিক প্রমানপত্র দেখাতে পারেননি সোবাহান মিয়া।
ভুক্তভোগী সবিতা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আনা তার শ্বশুরের মৃত্যু সনদ দেখিয়ে বলেন, তার ম্বশুর ১৯৯৩ সালে মৃত্যুবরণ করেছেন। সে কিভাবে ১৯৯৭ সালে জমির দলিল দিয়েছেন।
বলদিয়া ইউপি চেয়াম্যান মো. সাইদুর রহমান জানান, সাবেক ইউপি সদস্য সোবাহান গোমস্তা নাকি সবিতা মিস্ত্রীর শ্বশুর কেশব হালদারের কাছে ১৯৯৭ সালে জমি কবলা করেছেন। তার এক বছর পর তিনি মারা গেছেন। এ কথা সোবাহান আমাকে বলেছেন। তবে এ মর্মে সোবাহান মিয়া জমিদাতার কোন মৃত্যু সনদ দেখাতে পারেনি। সোবাহান কোর্টে মামলা দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, জমিদাতা কেশব হালদার তাকে ১৯৯৭ সালে দলিল দিয়ে ১৯৯৮ সালে মারা গেছেন। অপরপক্ষে সবিতা কোর্টে বলেছে তার শ্বশুর ১৯৯৩ সালে মারা গেছেন। তখন কোর্ট আমাকে তলব করে। আমি পরিষদের মৃত্যু সনদের রেজিস্টার নিয়ে হাজির হয়ে দেখিয়েছি। খাতায় কেশব হালদারের মৃত্যু তারিখ ১৯৯৩ সালের ১০ অক্টোবর।
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান জানান, আমি বিষয়টি স্থানীয় চৌকিদার এবং সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বিষয়টি শুনেছি। তখন স্থানীয়ভাবে খবর নিয়ে জানতে পেরেছি, সোবাহান মিয়া নাকি আদালতের উচ্ছেদ অভিযানের রায় নিয়ে জমিটি দখল করেছেন। এখন বিষয়টি আদালতের ব্যাপার।
