প্রধান সূচি

বাগেরহাটে পঁচাদীঘিতে কেমিক্যাল দিয়ে মাছ ধরার প্রস্তুতি : ফুসে উঠেছে এলাকাবাসী

দেশের উপকূলীয় জেলার অন্যতম জেলা বাগেরহাট। এ জেলায় খাবার পানির তীব্র সংকট রয়েছে। খাবার বা সুপেয় পানির জন্যে এ জেলার মানুষ পুকুরের পানি ব্যবহার করে থাকে। সুপেয় পানির জন্য খ্যাত রয়েছে, বাগেরহাটের হযরত খানজান আলী (রহ:) এর আমলে তারই খননকৃত বাগেরহাট শহরের পাশে ‘পঁচা দীঘি’। আর এ পঁচা দীঘি বাগেরহাট পৌরবাসীর সুপেয় পানির রিজার্ভ ট্যাংকি হিসাবে খ্যাত। এই দীঘি থেকে পানি নিয়ে জীবন বাঁচান হাজার হাজার এলাকাবাসী। এ দিঘিতে বরশি দিয়ে মাছ ধরার প্রস্তুতি নেওয়ায় ফুসে উঠেছে এলাকাবাসী। ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর এই দুইদিন ১১৫টি ঘাটে মোট ২৬ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সৌখিন বৈশ্যেলদের জন্য বরশি বাওয়ার ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। এলাকাবাসী জানান, এই পঁচা দীঘির পানি আমাদের আসপাশের জনসাধারণ ব্যবহার করেন। বরশি বাওয়ার কারণে পানি দূষিত হয়, আমরা পানি খেতে পারি না। স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের সময় শেখ পরিবারের সহযোগিতায় বরশি বাওয়া হতো, এসময় আমরা এই দীঘির পানি ব্যবহার করতে পারি নি। সে সময় শেখ পরিবারের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারি নি। এখন অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় ও কেমিক্যাল ব্যবহার করে বরশি দিয়ে মাছ ধরছে এটা কি ধরণের আচরণ।
এ বিষয়ে কাড়াপাড়া মির্জাপুর মৎসজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্য শুকুমার বিশ্বাস বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে আমাদের যে শর্ত ছিল সেখানে ৭নং শর্তে বলা হয়েছে জনস্বাস্থ্য হানিকর ও পানি দূষনকারী কোন দ্রব্য ব্যবহার করা যাবে না। সেখানে কেমিক্যাল দিয়ে বিভিন্ন চার বানিয়ে বরশি বাইলে পানি দূষন হবে। তাহলে ৭নং শর্ত অনুযায়ী এ শর্ত ভঙ্গ করা হল বলে মনে করি।
কাড়াপাড়া মির্জাপুর মৎসজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. দিদারুল আলম বলেন, ২০১১ সালে আমরা আমাদের এই সমিতি প্রতিষ্ঠা করি। আমরা প্রতি দুই বছর পর পর এই সমিতির কমিটি গঠন করি। আমাদের এই সমিতির মোট ২১ জন সদস্য রয়েছে, তাদের মধ্য থেকে আমরা সভাপতি সম্পাদক নির্বাচিত করি। সম্প্রতি এই সমিতি দেখভাল করেন আলমগীর হোসেন। এ বছরের কোন হিসাব নিকাশ আমরা পাইনি। বিভিন্ন সময় এই আলমগীর আমাদের না জানিয়ে কমিটি করে, কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মন গড়া কমিটি দাখিল করছে। এই যে, বরশি বাওয়া দিয়েছে আমাদের কমিটির সাথে কোন আলোচনা না করে। কি করে আলমগীর মাছ ধরছে এটা সম্পূর্ণ অনিয়ম, আমরা এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
নাম প্রকাশ না শর্তে এলাকার বাসিন্দারা বলেন, আমাদের এলাকার খাবার পানি উপযোগী একমাত্র পুকুর ‘পচা দীঘি’। এ পুকুরে পানি আমরা খাই এবং গৃহস্থলির কাজে ব্যবহার করি। কিন্তু একটি মহল এ পুকুরে মেডিসিন দিয়ে টিকিটের বিনিময়ে মাছ ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ পুকুরে মেডিসিন দিয়ে মাছ ধরলে পুকুরের পানি নষ্ট হয়ে যাবে। এ পুকুরের পানি নষ্ট হলে আমাদের কষ্টের সীমা থাকবে না।
২০২১-২০২২ সালের অর্থ বছরে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পৌরবাসির জন্য পঁচা দীঘিতে সুপেয় পানির জন্য রিজার্ভ ট্যাংকি স্থাপন করা হয়েছে।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক আহমেদ কামরুল হাসান বলেন, পঁচা দীঘিতে যদি কেমিক্যাল ব্যবহার করে বরশি দিয়ে মাছ ধরার প্রস্তুতি চলে থাকে, তার কারণে যদি পানি নষ্ট হয়, আমি বিষয়টি বন্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial