স্বরূপকাঠীতে এমপির আদেশ উপেক্ষা করে খাজনা নেয়া হচ্ছে কোরবানীর গরুর হাট থেকে
পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলায় পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. মহিউদ্দীন মহারাজ এর আদেশ উপেক্ষা করে অস্থায়ী গরুর হাট থেকে খাজনা তোলা হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে ওই হাট বসানো হয়েছে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির লোকেরা হাটগুলো ইজারা নিয়ে হাজারে দুই পার্সেন্ট, তিন পার্সেন্ট খাজনা তুলছেন। তারা বলছেন, উপজেলা ইউএনও অফিস থেকে স্কুল উন্নয়নের জন্য ইজারা এনে হাজারে দুই পার্সেন্ট টাকা রাখা হচ্ছে। এতে মাঠে আসা গরু ক্রেতাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরী হচ্ছে। তবে ইউএনও অফিস বলেছেন, আমরা গরুর হাটের কোন ইজারা দেইনি।
জানা গেছে, চলতি বাংলা সালের পহেলা বৈশাখ থেকে নেছারাবাদ উপজেলার সকল হাট বাজারের ইজারা মওকুফ করেছেন পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. মহিউদ্দীন মহারাজ। তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ওই সব হাটবাজারের খাজনা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে পরিশোধ করে দিয়েছেন। এরপর থেকে জনমনে শান্তি নেমে আসে। তবে হঠাৎ করে একমাত্র স্বরূপকাঠি পৌর শহরের স্বরূপকাঠি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বসা গরুর হাট ব্যতিত বাকি সব অস্থায়ী গরুর হাট থেকে খাজনা নেয়া হচ্ছে। উপজেলার ৫টি গরুর হাট থেকে হাজারে দুই পার্সেন্ট খাজনা নেয়া হচ্ছে।
উপজেলার পশুর হাটগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হাট হল সুটিয়াকাঠি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এ হাটে হাজারে খাজনা নেয়া হচ্ছে দুই পার্সেন্ট করে। জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. জহির আহমেদ বলেন, আমরা ইউএনও অফিস থেকে একজনের নামে ইজারা এনে খাজনা তুলছি। বিদ্যালয় উন্নয়নে এ টাকা ব্যয় হবে। তবে কত টাকা ইজারা নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি তা এড়িয়ে যান।
উপজেলার বৃহৎ অপর একটি পশুর হাট বসেছে চান মিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে। এ বিদ্যালয়ের পশুর হাটেও খাজনা নেয়া হচ্ছে। জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য খাজনা নেয়া হচ্ছে। সংসদ সদস্য মহিউদ্দীন মহারাজ উপজেলার সকল হাট বাজারের খাজনা নিজে পরিশোধ করেছেন। তারপরও কেন খাজনা নেয়া হচ্ছে পূনরায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের সভাপতি নেছারাবাদ উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেন।
নেছারাবাদ উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হক বলেন, এমপি সাহেব বলেছেন, হাটবাজারে খাজনা মওকুফ। তবে গরুর হাটের খাজনা নেয়া যাবে। স্বরূপকাঠি পৌর শহরের একটি গরুর হাটে খাজনা নেয়া হচ্ছে না। ইউনিয়নগুলোর গরুর হাটে খাজনা নেয়া হচ্ছে এর কারণ কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, পৌরসভার গরুর হাটের খাজনা এমপি পরিশোধ করেছেন।
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য মো. মহিউদ্দীন মহারাজ এমপি এর এপিএস মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ জানান, উপজেলার গরুর হাটগুলো অস্থায়ী। এগুলো সরকার কোন ইজারা দেয়না। যে কারণে আমরা পরিশোধ করতে পারিনি। আমরা যে খাজনা পরিশোধ করেছি সেগুলো সরকার ইজারা দিয়েছিল। তবে পৌরসভার গরুর হাটটির খাজনা পৌরসভার মেয়র সাহেব এমপি মহোদয়ের কাছ থেকে নিয়েছেন।
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, জানতে পেরেছি যে, এমপি সাহেব ইউনিয়নের কোন গরুর হাটের খাজনা পরিশোধ করেননি। তাই নাকি ওইসব গরুর হাটে খাজনা নেয়া হচ্ছে। অস্থায়ী গরুর হাট নাকি আপনি ইজারা দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, অস্থায়ী গরুর হাটের আমরা কোন ইজারা দেইনি। এগুলোর দায়িত্বে থাকে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট।
